রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবণী আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এটি আত্মহত্যা, নাকি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে পীরেরবাগ এলাকার একটি ১১ তলা ভবনের পাশের সড়ক থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত লাবণী আক্তার বেসরকারি প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার সক্রিয়তা ছিল। তিনি স্থানীয় একটি পার্লারে কাজ করতেন বলেও জানা গেছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন লাবণী। পরে তারা জানতে পারেন, মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় একটি ভবনের নিচে তার মরদেহ পড়ে আছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ঘটনার আগে ওই এলাকায় লাবণীকে নিয়ে আসা হয়েছিল। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তিনি একটি পরিচিত ব্যক্তির বাসায় গিয়েছিলেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ভবনের বাসিন্দা না হয়েও কেন লাবণী সেখানে গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তিনি ছাদে উঠেছিলেন, এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে লাবণী ভবনে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ছাদের দিকে যান। কয়েক মিনিট পর, দুপুর ২টা ১৪ মিনিটের দিকে তিনি নিচে পড়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে তিনি নিজে থেকে নিচে পড়ে গেছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে পুলিশ বিভিন্ন সম্ভাবনা সামনে রেখে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচের রাতেও লাবণী ওই ভবনে এসেছিলেন। তবে তিনি ঠিক কখন সেখানে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এসব বিষয় যাচাই করছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এদিকে প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী দীন মোহাম্মদ খসরু জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
লাবণী আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন।

