বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেই কয়েক মাস আগে বিয়ে করেছিলেন মায়া কিন্তু সেই সংসার টেকেনি। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী ফারুক গ্রিসে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি ছাড়েন। যাওয়ার আগে যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। অথচ স্ত্রীকে স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি।
স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতেও ঠাঁই হয়নি মায়ার। কয়েক মাসে মাত্র দুবার ফোন করেছিলেন ফারুক। জানিয়েছিলেন, তাঁর পাসপোর্ট নিজের কাছে নেই এবং তিনি আরও কয়েকজনের সঙ্গে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ফারুক বেঁচে আছেন কি না, সেটিও জানেন না তাঁর পরিবার।
মায়ার গল্প কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে প্রতিবছর অসংখ্য বাংলাদেশি একই ধরনের বিপদের মুখে পড়ছেন। কেউ সমুদ্রপথে প্রাণ হারাচ্ছেন, কেউ নিখোঁজ হচ্ছেন, আবার কেউ মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার বিভিন্ন বছরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রতিবছর শত শত বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর ও অন্যান্য বিপজ্জনক সমুদ্রপথে মারা যান অথবা নিখোঁজ হন। উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় নামলেও তাঁদের অনেকের ভাগ্যে গন্তব্যে পৌঁছানো জোটে না।
তবু ঝুঁকি কমছে না। গণমাধ্যমে একের পর এক মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে বিভীষিকাময় ভিডিও। তারপরও অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, যেকোনো মূল্যে ইউরোপে পৌঁছাতে পারলেই বদলে যাবে জীবনের চিত্র। সেই আশায় কেউ জমিজমা বিক্রি করেন, কেউ ধারদেনা করেন, আবার কেউ সর্বস্ব তুলে দেন দালালচক্রের হাতে।
কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি নির্মম। অনেকেই সমুদ্রেই প্রাণ হারান। কেউ বিদেশের কারাগারে বন্দী হন। কেউ অপহরণকারীদের হাতে আটকা পড়েন। আবার কেউ প্রতারণার শিকার হয়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পৌঁছে যান, যেখানে তাঁদের জোরপূর্বক যুদ্ধের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি ভুয়া ভিসা নিয়ে প্রায় ৪০ জন যাত্রী বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন। পরে তাঁরা কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন, তা এখনো পরিষ্কার হয়নি। এ ঘটনা মানবপাচারকারী চক্র কীভাবে সরকারি অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।
এদিকে মাত্র দুই দিন আগে ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অবৈধ পথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করা ছয় বাংলাদেশি যুবক লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি হয়েছেন। তাঁদের মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। অর্থ না পেয়ে জিম্মিদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারগুলোর দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দ্রুত টাকা আদায়ের চাপ সৃষ্টি করছে দালালচক্র। স্বজনদের আর্তনাদ আর অসহায়ত্বের সেই দৃশ্য এখন একেকটি পরিবারের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করা না গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।
চলতি বছরের মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া একদল বাংলাদেশির জন্য সেই যাত্রা পরিণত হয় মৃত্যুফাঁদে। দীর্ঘদিনের ক্ষুধা, পানির সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বর্ণনা অনুযায়ী, নিহতদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
এর এক মাস পর, এপ্রিলে লিবিয়া উপকূলের কাছে ১০৫ জন আরোহী বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ অন্তত ৭০ জন অভিবাসী নিখোঁজ হন। তাঁদের অনেকের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।
এর আগের বছর, ২০২৪ সালে একই উপকূলের কাছে ১২১ জন যাত্রী নিয়ে আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত আটজন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সেই দুর্ঘটনার পরও অনেক যাত্রী নিখোঁজ থেকে যান। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়; বরং অবৈধ অভিবাসনের পথে এটি এক ভয়াবহ বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের মৃত্যুর প্রায় ৯৩ শতাংশই ঘটেছে পানিতে ডুবে। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে চরম আবহাওয়া, খাদ্য ও সুপেয় পানির অভাবসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা অনিয়মিত অভিবাসীদের বড় একটি অংশই বাংলাদেশি। ঝুঁকির বিষয়টি জানার পরও অনেকেই দালালচক্রের প্রলোভনে এই পথ বেছে নিচ্ছেন। মায়ার স্বামী ফারুকের মতো অসংখ্য মানুষ এভাবেই নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন, যাঁদের ভাগ্য আজও অজানা।
তবে বিপদ শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতারণার শিকার হয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়ছেন বাংলাদেশিরা। বিভিন্ন প্রতারক চক্রের মাধ্যমে অনেককে রুশ বাহিনীর পক্ষে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ পর্যন্ত ড্রোন হামলায় কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি যুদ্ধবন্দী হয়েছেন। এখনো অন্তত ৩৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখনো কিছু বাংলাদেশি রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করছেন বলে জানা গেছে।
মানবপাচারের বিস্তৃতি কেবল ইউরোপগামী পথেই সীমাবদ্ধ নয়। মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া হয়ে সমুদ্রপথে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে পৌঁছানোর চেষ্টাও চলছে। আবার কলম্বিয়া ও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টায়ও বহু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বা আটক হয়েছেন। বিষয়টি একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচারবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর ও স্থলপথ ব্যবহার করে ইউরোপে পৌঁছানো ব্যক্তিদের উৎস দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ দশের মধ্যে এবং দেশটি রয়েছে চতুর্থ স্থানে। এটি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর এখন প্রায় নিয়মিত। বছরের পর বছর গণমাধ্যমে একই ধরনের দুর্ঘটনা, নিখোঁজ হওয়া এবং মানবপাচারের খবর প্রকাশিত হলেও দালালচক্রের কার্যক্রম থামছে না। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে তারা নতুন নতুন রুট তৈরি করছে এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফাঁদে ফেলছে।
প্রায় দেড় দশক আগে মানবপাচারকারীরা বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে মানুষ নিয়ে যেত। সেই সময় সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিতে গিয়ে বহু বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর সামনে আসে।
পরে এই রুট বদলে লিবিয়াকেন্দ্রিক নতুন পথ চালু হয়। ২০১৫ সাল থেকে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা ধারাবাহিকভাবে সামনে আসতে থাকে। এর বাইরে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মালয়েশিয়াগামী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গণকবর আবিষ্কারের ঘটনাও বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারলে অনেককে নির্যাতনের পর হত্যা করে গণকবরে ফেলে রাখা হতো। একইভাবে উন্নত জীবনের আশায় ভিয়েতনামে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাও রয়েছে বহু বাংলাদেশির জীবনে।
এসব ঘটনা প্রমাণ করে, অবৈধ অভিবাসনের প্রতিটি পথই অনিশ্চয়তা, প্রতারণা এবং প্রাণহানির ঝুঁকিতে ভরা। তবু উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে মানবপাচারকারী চক্র এখনো অসংখ্য মানুষকে সেই মৃত্যুফাঁদের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪১০ জন বাংলাদেশি সরকারি ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিলে গেছেন। তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের এই অভিবাসনকে ঘিরে সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় থাকার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দালালচক্রের সদস্যরা একজনের কাছ থেকে ৪৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। বৈধ কাগজপত্রে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিলেও অনেকের শেষ গন্তব্য হচ্ছে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকিপূর্ণ পথ।
এখানেই বড় প্রশ্ন উঠছে—বিএমইটির অনুমোদন নিয়ে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়া কর্মীরা কীভাবে পরে মানবপাচারের শিকার হচ্ছেন? এই প্রক্রিয়ায় কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন, সংশ্লিষ্ট দূতাবাস এবং বিএমইটির মধ্যে দায় এড়ানোর প্রবণতার অভিযোগও রয়েছে। বিদেশে গিয়ে কোনো কর্মী প্রতারণা, নির্যাতন বা পাচারের শিকার হলে এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা দ্রুত সহায়তা পান না।
অভিবাসন–সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির দায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁদের ভাষ্য, এখনো অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই কর্মী বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে।
এমন বাস্তবতায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও কেন হাজার হাজার বাংলাদেশি মানবপাচারের শিকার হচ্ছেন? কেন অনেকে বিদেশে গিয়ে সাইবার প্রতারণা চক্রে জড়িয়ে পড়ছেন অথবা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছেন? এসব প্রশ্নে দেশের সরকারি অভিবাসন ছাড়পত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচার প্রতিরোধে শুধু অনুমোদন দেওয়া যথেষ্ট নয়। বিদেশে পাঠানোর আগে কর্মচুক্তি, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এবং গন্তব্য দেশের কর্মপরিবেশ আরও কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দালালচক্রের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ এবং নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় প্রচারণাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন ভুয়া বিজ্ঞাপন ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তারা মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার অপরাধ দমনকারী সংস্থার মাধ্যমে এসব চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি মানবপাচারের শিকার বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ।
এর মধ্যেই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি ভুয়া ভিসা ব্যবহার করে প্রায় ৪০ জন অভিবাসী শ্রমিক বোর্ডিং ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছে যান। পরে তাঁরা কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—মানবপাচারকারী চক্র কীভাবে সরকারি অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করছে, এবং সেই দুর্বলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখা অপরাধ নয় কিন্তু সেই স্বপ্ন যদি দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবে সেটি সহজেই মৃত্যুযাত্রায় পরিণত হতে পারে। প্রশ্ন হলো, আর কত লাশ ভেসে উঠলে, আর কত পরিবার নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় জীবন কাটালে, আর কত মায়া তাঁর ফারুকের ফেরার আশায় দিন গুনলে—মানবপাচারের এই চক্র সত্যিই থামবে?

