Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, জুলাই 30, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কাজিদের ফাঁকিতে বছরে রাজস্ব হারাচ্ছে দেড়শ কোটি টাকা
    অপরাধ

    কাজিদের ফাঁকিতে বছরে রাজস্ব হারাচ্ছে দেড়শ কোটি টাকা

    মনিরুজ্জামানUpdated:জুলাই 30, 2026জুলাই 30, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    দেশের মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগে জর্জরিত। পবিত্র ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেবাখাতে ঘুষ, লাইসেন্স বাণিজ্য, কমিশন আদায় এবং রাজস্ব ফাঁকির মতো অভিযোগ এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও সংস্কারের উদ্যোগ তেমন দৃশ্যমান নয়।

    আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, দেশের প্রায় ৬ হাজার নিকাহ রেজিস্ট্রারের (কাজি) কার্যক্রমে রয়েছে নানা অসঙ্গতি। গ্রাহকদের কাছ থেকে সরকারি কমিশনের নামে প্রতি বছর বিপুল অর্থ আদায় হলেও তার সামান্য অংশও সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না।

    সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিকাহ রেজিস্ট্রাররা বছরে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা কমিশন হিসেবে আদায় করেন। কিন্তু এই অর্থের ১ শতাংশও রাষ্ট্রীয় রাজস্ব হিসেবে জমা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

    অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কাজির লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। অর্থ ও রাজনৈতিক সুপারিশের মাধ্যমে লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে অনেকটাই পরিচিত ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, অনেকে বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে লাইসেন্স পাওয়ার পর নিজস্ব প্রতিনিধি নিয়োগ করে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে তারা আয় ঠিকই ধরে রাখলেও সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনীহা দেখান।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, নিকাহ রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে রাজস্ব জমা, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু এবং নিয়মিত অনলাইন তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা গেলে এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে।

    কাজি সমিতি ও প্রায় এক ডজন নিকাহ রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাজির নিবন্ধন পেতে অনেক ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে লাইসেন্স পেতে ৩ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার চাপ এবং সমিতির নামে মাসিক চাঁদার অভিযোগও রয়েছে। তবে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের লাইসেন্স ও বার্ষিক ফি আদায়ের জন্য সরকার নির্ধারিত নিয়ম রয়েছে। ‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) ২০২৫’-এর সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীকে নির্ধারিত ফি সরকারি ট্রেজারি বা সাব-ট্রেজারিতে জমা দিতে হয়।

    বিধিমালা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স ফি ২০ হাজার টাকা, জেলা সদরের পৌরসভা এলাকায় ৪ হাজার টাকা, জেলা সদরের বাইরের পৌরসভা এলাকায় ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া প্রতি বছর ৩১ মার্চের মধ্যে লাইসেন্সধারী নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বার্ষিক ফি জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় এ ফি ১০ হাজার টাকা, জেলা সদরের পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা, জেলা সদরের বাইরের পৌরসভা এলাকায় ১ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ২০০ টাকা কিন্তু বাস্তবে এসব অর্থ নিয়মিত জমা হচ্ছে কি না, কিংবা কত টাকা সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই আইন মন্ত্রণালয়ের কাছেও।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করতে হলে পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি লাইসেন্স প্রদান, ফি আদায় ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অনিয়মের এই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।

    বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, জনসংখ্যা ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তিতে নির্ধারিত এলাকায় কাজি নিয়োগের বিধান রয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন, ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার দুটি ওয়ার্ডে একজন, ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডে একজন, ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভার পুরো এলাকায় একজন এবং প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একজন লাইসেন্সধারী নিকাহ রেজিস্ট্রার থাকার কথা।

    বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারের নামে কমিশন হিসেবে আদায় করা অর্থের নির্ধারিত অংশ প্রতি অর্থবছর শেষে পরবর্তী অর্থবছরের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য ১৬ হাজার টাকা, পৌর এলাকার জন্য ৪ হাজার টাকা এবং প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ২ হাজার টাকা জমা দেওয়ার কথা। তবে এসব অর্থ নিয়মিত জমা হচ্ছে কি না, কিংবা বছরে কত টাকা সরকারের রাজস্ব হিসেবে আসছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছেও।

    ঢাকার অভিজাত এলাকায় কোটি টাকার দেনমোহর:

    আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নিবন্ধিত কাজি দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী ও বসুন্ধরার মতো অভিজাত এলাকায় অনেক বিয়েতে দেনমোহরের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

    এসব এলাকায় কাবিননামা নিবন্ধনে ২০ হাজার টাকার কম ফি নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার টাকার জন্য ১৪ টাকা হারে নিবন্ধন ফি নির্ধারিত রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের সময় সরকারের নামে ফি বা কমিশন আদায় করা হলেও সেই অর্থের সামান্য অংশও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় না। এমনকি অর্থ জমা দেওয়ার জন্য এখনো কার্যকর ও স্বচ্ছ কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। সরকারের নির্দিষ্ট অর্থ গ্রহণের হিসাব ব্যবস্থাও নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত কাজির সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। গড়ে একজন কাজির মাসিক আয় ২ লাখ টাকা ধরে হিসাব করলে এই খাতে মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১২০ কোটি টাকা। সে হিসাবে বছরে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা হতে পারে। তবে এই আয়ের প্রকৃত হিসাব সরকারের কাছে নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এ খাত থেকে সম্ভাব্য বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

    অনুসন্ধানে অভিযোগ পাওয়া গেছে, অনেক নিবন্ধিত কাজি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে নিজের লাইসেন্স বা নিবন্ধন নম্বর অন্যের কাছে ব্যবহার করতে দেন। কোথাও কোথাও মাসিক চুক্তিতে প্রতিনিধি নিয়োগ করে বিবাহ নিবন্ধনের কাজ পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। তবে আইন অনুযায়ী, একজন নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের অনিয়মের কারণে বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সরকারের করনীতি অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার বেশি আয় হলে আয়কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অনেক কাজি প্রকৃত আয় গোপন করেন এবং পেশাগত আয়ের পরিবর্তে অন্য খাত দেখিয়ে কর পরিশোধ করেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজধানীর অনেক এলাকায় একজন কাজির মাসিক আয় কয়েক লাখ টাকা হলেও সরকারি হিসাবের সঙ্গে তার কোনো সামঞ্জস্য নেই। ফলে আয়কর আদায়েও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে একটি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তি কাজ করছেন। এতে দায়িত্ব নির্ধারণ, তদারকি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ৩০০ কাজির নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত একাধিক মামলা ও রিট বিচারাধীন রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে হলে পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালের আওতায় আনতে হবে। অনলাইন নিবন্ধন, ডিজিটাল পেমেন্ট, কেন্দ্রীয় হিসাব নম্বর এবং নিয়মিত মনিটরিং চালু করা গেলে রাজস্ব ফাঁকি কমানো সম্ভব। তাদের মতে, কাজি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং স্বচ্ছ যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলে এই পেশায় দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

    তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কাজি পরিবারের উত্তরাধিকারভিত্তিক অগ্রাধিকার ব্যবস্থার পরিবর্তনেও সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ একই সঙ্গে ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। নিকাহ নিবন্ধন ফি থেকে শুরু করে সরকারি রাজস্ব জমা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সেবা আরও স্বচ্ছ হবে, অন্যদিকে সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব পেতে পারে।

    নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগ, দেনমোহরের ওপর ফি নির্ধারণ এবং তালাক নিবন্ধনের নিয়মে পরিবর্তন আনা হলেও দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ফি আদায়ের পরিমাণ বাড়লেও সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। এখনো আগের পদ্ধতিতে চালানের মাধ্যমে বছরে একবার নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত সরকারের সময়ে ‘মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা’-তে বেশ কিছু সংশোধন আনা হয়। এতে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ফি বাড়ানোর পাশাপাশি কাজি হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন করা হয়। নতুন বিধিমালায় আলিয়া মাদ্রাসার পাশাপাশি স্বীকৃত কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রিধারীদেরও নিকাহ রেজিস্ট্রার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষিত প্রার্থীদের জন্য এখনো এই পেশায় প্রবেশের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগে বিদ্যমান কাজিদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও বিধিমালায় যুক্ত করা হয়।

    তবে ফি আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসেনি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের নামে সংগৃহীত অর্থ জমা দেওয়ার জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক হিসাব চালু করা হয়নি। ফলে অর্থ আদায় ও জমার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার নিবন্ধিত নিকাহ রেজিস্ট্রার রয়েছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫ শতাধিক নিবন্ধিত কাজির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

    তবে কাজিদের বার্ষিক ফি জমা, এ খাত থেকে সরকারের মোট আয় এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব তথ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শাখার নয়। দেনমোহরের ওপর নির্ধারিত ফি থেকে সরকার কর পাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মূলত কাজিদের নিবন্ধন দেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

    মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব জানান, কাজিদের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটালের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০২ জেলায় ডিজিটাল কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে সব জেলায় এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

    বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম কিবরিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজিরা নিয়ম মেনেই সরকারের নামে কমিশন আদায় করেন। এসব অর্থ বছরে দুইবার সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তিনি আরও দাবি করেন, কাজিদের ব্যক্তিগত আয়ের ওপরও সরকারকে কর দেওয়া হয়।

    তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু ব্যক্তি ভুয়া কাজি পরিচয়ে অনিয়ম করছেন। ভুয়া ভলিউম ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    গোলাম কিবরিয়া আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দপ্তরে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয় কাজিদের। তার দাবি, অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ ছাড়া কাজ করানো কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাজিদের নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়াতেও হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করতে হলে শুধু বিধিমালা সংশোধন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছ অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটালভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    জুলাই 30, 2026
    অপরাধ

    স্বপ্নের বিদেশযাত্রা যেভাবে পরিণত হচ্ছে মানব পাচারের ফাঁদে

    জুলাই 30, 2026
    অপরাধ

    চট্টগ্রামে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য

    জুলাই 30, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.