সুনামগঞ্জ-২ আসনের একজন সংসদ সদস্যকে গলায় দা ধরে জোরপূর্বক সম্পত্তি লিখে দিতে বাধ্য করার অভিযোগে তাঁর তিন সৎভাইসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুনামগঞ্জের একটি আদালত।
গতকাল সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই জোনের একটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আট আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন ওই সংসদ সদস্যের স্ত্রী। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর তিন সৎভাই একজোট হয়ে পারিবারিক সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি সংসদ সদস্যের ছোট সৎভাই, যিনি স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের উপজেলা শাখার একজন নেতাও বটে। বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আরও দুই সৎভাই, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, একজন দলিল লেখক এবং দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একজন কর্মচারী।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক অক্ষমতায় ভুগছিলেন ওই সংসদ সদস্য। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সুযোগেই আসামিরা তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার একটি পরিকল্পনা করেন।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের জানুয়ারির শেষভাগে তিন সৎভাই মিলে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা সাজিয়ে নিয়ে গিয়ে সংসদ সদস্যকে একটি দলিলে সই করতে বলেন। তিনি রাজি না হলে আসামিরা তাঁর গলায় দা ধরে সই না করলে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা তাঁর অপর স্ত্রী প্রতিবাদ করলে এক আসামি তাঁকেও হত্যার হুমকি দেন, যার ফলে ভয়ে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ ছাড়া ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও সংসদ সদস্যের একজন সমর্থককেও হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বাদী দিরাইয়ে স্বামীর বাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
বাদীপক্ষের একজন আইনজীবী জানান, বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের এপ্রিলে একই সৎভাইদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে স্বামীকে মারধরের অভিযোগ এনে দিরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বাদী নিজেই। পরে একই বছরের জুলাই মাসে সংসদ সদস্য নিজে দিরাই উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন।
সেই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাঁর সৎভাইয়েরা তাঁকে দিয়ে কিছু কাগজে সই করিয়ে নেন এই বলে যে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি তাঁর মেয়েদের নামে নিবন্ধন করে দেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, মেয়েদের বঞ্চিত করে সেই সম্পত্তি তিন সৎভাই নিজেদের নামেই নিবন্ধন করে নিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর।

