রংপুর নগরীতে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার স্থানীয় থানা থেকে সরিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অধিকতর তদন্তের দাবি ওঠার প্রেক্ষাপটেই পুলিশ এই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, মামলাটি আরও নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা এবং দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিলের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একজন উপ-কমিশনার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা, যিনি কোতোয়ালি থানার একজন পরিদর্শক ছিলেন, তিনি নিজে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে গিয়ে মামলার সব নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তার হাতে হস্তান্তর করেন।
এরপর গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে পুরোনো ও নতুন— দুই তদন্ত কর্মকর্তাই একসঙ্গে নগরীর ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে আগের তদন্ত কর্মকর্তা নতুন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলের খুঁটিনাটি বিভিন্ন বিষয় এবং এখন পর্যন্ত তদন্তে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, তার স্ত্রী, মেয়ে এবং মাত্র বারো বছর বয়সী ছেলে— অর্থাৎ একই পরিবারের চারজন সদস্য।
এই মর্মান্তিক ঘটনা রংপুরসহ সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দ্রুত জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী, সহকর্মী, শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তদন্তভার পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন অনেকেই, কারণ এ ধরনের স্পর্শকাতর ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী মামলায় বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থার সম্পৃক্ততা প্রকৃত সত্য উদঘাটনে অতিরিক্ত গুরুত্ব বহন করে। এখন সবার দৃষ্টি নতুন তদন্ত দলের কার্যক্রমের দিকে, যাদের কাছ থেকে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

