নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সড়কের পাশে লাগানো চারাগাছ উপড়ে ফেলার ঘটনাকে ‘বৃক্ষ হত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এই ঘটনায় জড়িতদের আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর কলমাকান্দা উপজেলার বাবনি এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাছগুলো নিজ চোখে দেখেন ডেপুটি স্পিকার। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, ঘটনার দুইদিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ আগস্ট, যখন ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনায় স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে বাবনি এলাকার সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক চারাগাছ রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই ২৫ আগস্ট রাতে দুর্বৃত্তরা এসে ৩৫টি চারাগাছ উপড়ে ফেলে এবং সেগুলোর সুরক্ষাবেষ্টনীও ভেঙে দেয়।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, গাছকে তিনি নিছক উদ্ভিদ নয় বরং একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, এই গাছগুলোকে হত্যা করা হয়েছে, আর যারা এই কাজ করেছে তাদের সুবুদ্ধি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি প্রার্থনা করেন। পরিবেশ রক্ষা ও জীবনের ভারসাম্যে গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বৃক্ষরোপণের মতো একটি ভালো উদ্যোগ কোনোভাবেই থেমে থাকতে পারে না।
এই ঘটনার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ হিসেবে ডেপুটি স্পিকার একই জায়গায় নতুন করে ১ হাজার ২০০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের একটি বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেন এবং নিজেই তা উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি প্রতিটি নতুন চারা যাতে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে আরও কড়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রশাসনেরই দায়িত্ব ছিল, কিন্তু দুইদিনেও তারা কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। এ কারণেই তিনি সরাসরি নির্দেশ দেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
জনগণ ও প্রশাসন উভয়ের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এই গাছগুলো কেবল সরকারি সম্পত্তি নয়, বরং পুরো জাতির সম্মিলিত সম্পদ। একটি গাছকে বাঁচানো মানে একরকম একটি প্রাণকেই বাঁচিয়ে রাখা। তাই তিনি স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে গাছ রক্ষার এই আন্দোলনে সক্রিয় প্রহরীর ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান।
নতুন চারা রোপণ কর্মসূচিতে ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বিশ্লেষকদের চোখে এই ঘটনাটি কেবল কয়েকটি চারাগাছ নষ্ট হওয়ার বিচ্ছিন্ন খবর নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে যে ধরনের প্রতিরোধ ও অসহযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়, তারই একটি প্রতিফলন। প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ টেকসই রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

