রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে বিড়ালকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে চার বাসিন্দাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ডিওএইচএস পার্কের কাছে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পর ঘটনাটি তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে ঘটনা তদন্তের জন্য বারিধারা ডিওএইচএসের অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (এডব্লিউবিডি) এবং বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদের সদস্যদের নিয়ে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের একজন আকিবুর রহমান খান। তাঁর অভিযোগ, বিড়ালকে খাবার দেওয়ার সময় প্রায় ৩০ জন নিরাপত্তাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁর স্ত্রীর মুঠোফোন জোর করে নিয়ে নেন।
আকিবুর রহমানের আরও অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং চুল ধরে টানা হয়। তাঁকেও মারধর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁর পায়ে পাড়া দেন এবং মুখ ও পিঠে লাথি মারেন।
এ ঘটনায় তাঁর হাড়ে চিড় ধরেছে বলেও জানান আকিবুর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার ভিডিও ধারণ ঠেকাতে অন্য বাসিন্দাদের মুঠোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।
আকিবুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ ও সামরিক পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে তারা নেওয়া মুঠোফোনগুলো উদ্ধার করেনি। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না থাকার কথা জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারিধারা ডিওএইচএসের অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (এডব্লিউবিডি) এবং বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এডব্লিউবিডি জানিয়েছে, ২০১৯ সালের প্রাণিকল্যাণ আইনে প্রাণীদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে বিড়ালকে খাবার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক নারী ও কয়েকজন পুরুষকে তাদের ওপর হামলার ঘটনা বর্ণনা করতে দেখা যায়। তাদের একজন দাবি করেন, নিরাপত্তাকর্মীদের হামলায় তাঁর একটি আঙুল ভেঙে গেছে। অন্য কয়েকজনও তাঁদের শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন দেখান।

