১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের করা আপিলের কার্যক্রম চলবে কি না, সে বিষয়ে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
এর আগে গত ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আবুল কালাম আযাদ। এখন সেই আপিলের শুনানি আদৌ চলবে কি না, সেটিই আপিল বিভাগের সামনে মূল বিষয়।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় থাকা আবুল কালাম আযাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম রায়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান।
দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। আত্মসমর্পণের আগে রাষ্ট্রপতির কাছে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে সেই স্থগিতাদেশের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্ত যুক্ত ছিল।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২১ জানুয়ারি তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।
সেদিন আযাদের পক্ষে আইনজীবী মশিউল আলম জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল থেকে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের ভিত্তিতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে এক বছরের জন্য তার সাজা স্থগিত করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়েছিল।
এখন আপিল বিভাগে আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের আদেশের মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হবে, দীর্ঘদিন পর করা আবুল কালাম আযাদের এই আপিলের বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে কি না।

