নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে এক ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে সাড়ে বারো লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া অর্থও। তবে সংশ্লিষ্ট ইসলামী ব্যাংক শাখার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করার দাবি করেছে পুলিশ, আর তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগী ব্যক্তি ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত। গতকাল সোমবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরহাজারী ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই রাতে তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, গতকাল বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে তিনি ব্যাংকের বসুরহাট শাখা থেকে বারো লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলে করে নিজের কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে ওই স্কুলের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে পাঁচজনের একটি দল তার গতিরোধ করে এবং নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর তার কাছে মাদক থাকার অভিযোগ তুলে পিস্তল ঠেকিয়ে ও হাতকড়া পরিয়ে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়া হয় তাকে। গাড়ির ভেতরে চোখ-মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে তাকে মারধর করা হয় বলেও তিনি জানান। এরপর অস্ত্রের মুখে তার কাছ থেকে পুরো বারো লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা এবং পাশের কবিরহাট উপজেলার একটি জায়গায় হাত-চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, একজন ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে এত বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের এই ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার শনাক্ত করার পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেও কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ব্যাংকের বসুরহাট শাখার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির পিঠে একটি কালো রঙের ব্যাগ ছিল, পরনে ছিল কালো প্যান্ট ও পোলো শার্ট। সিসিটিভি ফুটেজে তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, বিশেষত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে। ব্যাংক লেনদেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

