চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অটোরিকশার একটি গ্যারেজকে ব্যবহার করে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে পাঁচটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২০টি গুলি এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হাটহাজারীর জামাল হোসেন ও কবির আহমদ। জামাল রাজমিস্ত্রি এবং কবির অটোরিকশাচালক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। পুলিশের দাবি, নিজেদের পেশাগত পরিচয়কে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁরা অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
সোমবার রাতে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ক্রেতা সেজে পুলিশের যোগাযোগ
পুলিশ জানায়, অস্ত্র কেনার আগ্রহ দেখিয়ে প্রথমে জামাল ও কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় তাঁরা ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, অস্ত্রের ক্রেতা সেজে পুলিশ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এরপর তাঁদের দেওয়া তথ্য ও অবস্থান অনুযায়ী অভিযান চালানো হয়।
গ্যারেজের আড়ালে অস্ত্র তৈরি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন জানিয়েছেন, হাটহাজারীর সরকারহাট এলাকার একটি অটোরিকশার গ্যারেজে এসব অস্ত্র তৈরি করা হতো। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যারেজটির এক কর্মী ওসমান সেখানে গোপনে অস্ত্র তৈরির কাজ করতেন।
তদন্তকারীদের দাবি, তৈরি করা অস্ত্র পরে বিক্রির জন্য জামাল ও কবিরের কাছে দেওয়া হতো। গ্যারেজের মালিক দেশের বাইরে থাকায় ওসমানই দীর্ঘদিন ধরে সেটি পরিচালনা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ এখন ওসমানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
পেশার পরিচয়েই ছিল আড়াল
তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, অস্ত্রের কারবার আড়াল করতেই জামাল ও কবির নিজেদের সাধারণ পেশাজীবী হিসেবে পরিচয় দিতেন। একজন রাজমিস্ত্রি, অন্যজন অটোরিকশাচালক—এমন পরিচয়ের কারণে তাঁদের কর্মকাণ্ড সহজে সন্দেহের মধ্যে পড়েনি বলে পুলিশের ধারণা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, জামাল ও কবির তাঁদের পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করেই অস্ত্র বিক্রি করতেন, যাতে তাঁদের নিয়ে সন্দেহ তৈরি না হয়।
অস্ত্র আইনে মামলা
পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০টি গুলি উদ্ধারের ঘটনায় হাটহাজারী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জাম কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, গ্যারেজে কতদিন ধরে অস্ত্র তৈরি হচ্ছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পাশাপাশি অস্ত্রের সম্ভাব্য ক্রেতা এবং সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও তদন্ত চলছে।

