নথি গায়েব করে প্রায় ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকার কর ফাঁকির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিসাধনের অভিযোগে কর অঞ্চল-৫ এর একজন উপকর কমিশনারকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯০ (কোম্পানিজ)-এ কর্মরত থাকাকালে ওই কর্মকর্তা করদাতা প্রতিষ্ঠান ধামসুর ইকোনমিক জোন লিমিটেডের ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ করবর্ষের ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া কর নির্ধারণী আদেশের বিপরীতে অসদুপায়ে নতুন আদেশপত্র তৈরি করে নতুন কর দাবি সৃষ্টি করেন, যার ফলে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়।
এই ঘটনার ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, তবে তাঁর লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সবচেয়ে কঠোর শাস্তি হিসেবে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলারও আসামি। একই বছরের আগস্টে দুদক নথি গায়েব করে ১৪৬ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে তাঁর পাশাপাশি কর অঞ্চল-৫-এর সাবেক কর কমিশনার ও একজন অতিরিক্ত কর কমিশনারসহ মোট তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ওই দুই করবর্ষে ধামসুর ইকোনমিক জোন লিমিটেডের বিপরীতে মোট কর দাবি ছিল প্রায় ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। কিন্তু কর্মকর্তা বদলির সুযোগে নথিতে থাকা কর নির্ধারণী আদেশ পরিবর্তন ও পরিমার্জন করে এই দাবির পরিমাণ কমিয়ে দুই করবর্ষে যথাক্রমে শূন্য ও মাত্র এক হাজার টাকা করে দেখানো হয়—যার মাধ্যমে সরাসরি রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা করা হয়। এমনকি মূল কর নির্ধারণী আদেশের নথিও উধাও করে দেওয়া হয়, যা দুদকের অভিযানেও উদ্ধার করা যায়নি।
গত ৯ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর অঞ্চল-৫ থেকে এই নথি গায়েবের ঘটনায় এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায় দুদক, যেখানে অভিযোগের সত্যতাও মেলে বলে জানা গেছে।

