আয়কর নথির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ৩৮ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে হস্তান্তরের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক সহকারী কর কমিশনারকে স্বপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তবে তাঁর পদোন্নতি আগামী আট বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, গত ৩১ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যানের সই করা এই প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার কর অঞ্চল-৫-এর সার্কেল-৯৩-এ সহকারী কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একজন করদাতার কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুসারে, এই অর্থের বিনিময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট করদাতার আয়কর নথির বেশিরভাগ রেকর্ড পরিবর্তন করে নতুন তথ্য যুক্ত করেন। পরে পুরনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল ও ট্রাইব্যুনালের আদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র করদাতার মনোনীত আইনজীবী ও তাঁর এক সহকারীর হাতে তুলে দেন তিনি।
এমন কর্মকাণ্ডের জেরে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’র অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল।
কর্মকর্তা কৈফিয়তের জবাব দিয়ে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানালে গত ১৬ মার্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ থাকায় বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও ‘দুর্নীতিপরায়ণতা’র অভিযোগ একইভাবে প্রমাণিত হয়নি।
সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এনবিআর তাঁকে ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী তুলনামূলক লঘুদণ্ড হিসেবে আগামী আট বছরের জন্য তাঁর পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে প্রত্যাহার করা হয় তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক আদেশে তাঁকে প্রথম বরখাস্ত করা হয়েছিল।

