ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের এক অধ্যাপকের ছেলে, যিনি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
গাড়িটির চালক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব। তাঁর বাবা অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম গণিত বিভাগের শিক্ষক। সাদমান সাকিব ঘটনার পর বলেন, বাবার গাড়ি নিয়ে ‘টেস্ট ড্রাইভ’ করতে গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার মুখে পড়েন। তাঁর ভাষ্য, ব্রেক চাপতে গিয়ে ভুল করে তিনি অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে ফেলেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের গেটের সামনে আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা গাড়িটি প্রথমে এক শিক্ষার্থীকে জোরে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনকে আঘাত করলে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
আহত ৬ শিক্ষার্থী হলেন জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সাদমান সাকিবকে মারধর করেন এবং গাড়িটি ভাঙচুর করেন। পরে তাঁকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আলী মোহাম্মদ কাওসার বলেন, ওই শিক্ষার্থী গণিত বিভাগের এক শিক্ষকের ছেলে। তাঁকে শাহবাগ থানায় দিয়ে আসা হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে জানতে সাদমান সাকিবের বাবা অধ্যাপক শহীদুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনাটি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের চলাচলের জায়গা ও অনুষদের গেটের মতো ব্যস্ত স্থানে দ্রুতগতিতে গাড়ি ঢুকে পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কারও গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্পাসে কারা, কোন শর্তে এবং কত গতিতে গাড়ি চালাতে পারবেন, সে বিষয়ে কঠোর নিয়ম ও কার্যকর তদারকির প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
আবার দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে চালকের বক্তব্য, অর্থাৎ ব্রেকের বদলে ভুলে অ্যাক্সিলারেটর চাপার দাবি, স্বতন্ত্রভাবে যাচাই হওয়া জরুরি। সেটি তদন্তের বিষয়। একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হাতে চালককে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটিও আলাদা উদ্বেগের। ক্ষোভ যতই যৌক্তিক হোক, আইন হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে বিচারের দাবি আইনি পথেই এগিয়ে নেওয়াই কাম্য।
এখন নজর থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলার অগ্রগতি, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং আহত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার দিকে। ক্যাম্পাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

