জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক সত্যতা উদ্ঘাটন করেছে। অভিযানে দুজনকে আটক করা হলেও তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে দুদকের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ জানান, ইসি সচিবালয়ে ঘুষ লেনদেনের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে-এমন অভিযোগের ভিত্তিতে চার সদস্যের একটি দল নির্বাচন ভবনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে সেবাগ্রহীতা সেজে বেলা ১১টা থেকে নির্বাচন ভবনের আশপাশে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।
তিনি বলেন, “আমরা সেবা প্রার্থী হিসেবে আশপাশের কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে এনআইডি সংশোধনের সমস্যার কথা জানাই। তারা এ সমস্যার সমাধান করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করেন। এতে অভিযানে দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।”
তদন্তে আরও দেখা গেছে- কম্পিউটারের দোকান, আনসার সদস্য, দালাল, পুলিশ এবং কমিশনের কিছু কর্মকর্তা-সবাই এই নেটওয়ার্কে জড়িত। দুদকের অভিযানে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
আসিফ আল মাহমুদ আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বিভিন্ন ব্যক্তির নাম এনআইডি সংশোধনের তালিকায় রয়েছে। ওই নম্বরে কল দেওয়ার পর একজন ফোন রেখে পালিয়ে যান। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এই নেটওয়ার্কের পেছনে আরও বড় কোনো চক্র কাজ করছে।
এদিকে এনআইডি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় চার লাখ আবেদন জমা রয়েছে। যা আগামী তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধন করার পরিকল্পনা করেছি। খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দেখতে পাবেন।”
দুদকের এই অভিযান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ঘুষ লেনদেন বন্ধ এবং দুর্নীতির নেটওয়ার্ক ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

