গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে, বিশ্বজুড়ে চলতি বছর মোট ২২০ কোটি ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল মুদ্রা চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রটির হ্যাকাররা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে।
চেইনঅ্যানালাইসিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) কর্মী সেজে ক্রিপ্টো ও অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। ২০২৪ সালে হ্যাকারদের দ্বারা চুরি হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়েছে। তবে এটি ২০২১ ও ২০২২ সালের তুলনায় কম। এ অবস্থায় ক্রিপ্টো ইন্ডাস্ট্রির জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রাইভেট কি হ্যাকারদের হাতে যাওয়ায় ক্রিপ্টো চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ এ ‘কি’ ক্রিপ্টো সম্পদের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হয়। ভবিষ্যতে এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।
গত সপ্তাহে সেন্ট লুইসের একটি ফেডারেল আদালত ১৪ জন উত্তর কোরীয় নাগরিককে দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। ওই নাগরিকরা মার্কিন কোম্পানি থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া এবং সে অর্থ পিয়ংইয়ংয়ের অস্ত্র কর্মসূচিতে পাঠানোর পাঁয়তারা করছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারীদের ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে চলতি বছর জাপানের ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ডিএমএম থেকে ৩০ কোটি ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন ও ভারতভিত্তিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ওয়াজিরএক্স থেকে প্রায় ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। মার্কিন সরকার বলছে, উত্তর কোরিয়ার শাসকরা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ সংগ্রহের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অন্যান্য সাইবার অপরাধের আশ্রয় নিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি

