দেশের বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নের নামে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অধীনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, তদন্তে এসব অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রধান অভিযুক্তরা বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি হয়েছেন বিগত সরকার প্রধানের সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক বিমান সচিব মহিবুল হক, যুগ্মসচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক এবং বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। দুদক তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করেছে। তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে নজরদারিতে রেখেছে।
গ্রেফতার ও অন্যান্য ব্যবস্থা দুদকের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মহিবুল হক সিনিয়র সচিব থাকাকালে জনেন্দ্রনাথ সরকার ও হাবিবুর রহমান একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এর পেছনে তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সহায়তা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় মহিবুল হককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, জনেন্দ্রনাথ সরকারকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলী অবসরে গেছেন। তবে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এখনও তার পদে বহাল রয়েছেন।
বড় প্রকল্পে দুর্নীতি দুদক জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। বিশেষ করে:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রকল্পের নামে ১৩৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
- সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের আগেই ২১২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদারকে।
- তৃতীয় টার্মিনালের নকশা পরিবর্তন করে সাশ্রয় হওয়া ১,২০০ কোটি টাকার কোনো হিসাব নেই।
- শাহ আমানত ও কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পেও বিপুল দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে।
বেবিচক চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া জানান, বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাবিবুর রহমানকে প্রধান প্রকৌশলী করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকের অবস্থান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, তদন্তে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ব্যাপক লুটপাটের তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ৯০০ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা হয়েছে এবং আরো মামলার প্রস্তুতি চলছে।
গভীর নজরদারি ও আইনি প্রক্রিয়া দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যেখানে তদন্ত করা হচ্ছে, সেখানেই দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

