রেগুলেটরি ইনফরমেশন সিস্টেম (আরআইএস) প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রকল্পটিতে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে।
প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান যাকে সম্প্রতি বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
পুঁজিবাজারের সক্ষমতা বাড়াতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) থার্ড ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (সিএমডিপি-থ্রি) আওতায় এই প্রকল্পের অর্থায়ন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মাসিক, ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক প্রতিবেদনসহ আর্থিক বিবরণী অনলাইনে জমা দিতে পারত। পাশাপাশি, পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারীরা অনলাইনে নিবন্ধনের আবেদন করতে সক্ষম হতো।
বিএসইসি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, প্রকল্প পরিচালক ২০২৩ সালের ২০ মার্চ বিএসইসির বিভিন্ন বিভাগকে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে অবহিত করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনেই শেষ হয়েছিল। বিএসইসির এমআইএস বিভাগ অন্যান্য বিভাগ থেকে মতামত চেয়ে জানতে পারে যে প্রকল্পটি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে এবং এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে এরপরও প্রকল্প পরিচালক ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিএসইসির অর্থ বিভাগে প্রকল্প সমাপ্তির প্রতিবেদন (পিসিআর) জমা দেন, যেখানে বিএসইসি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছিল না। এমআইএস বিভাগের প্রাপ্ত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে দুদক আরআইএস সফটওয়্যার পরীক্ষা করেছে। গত সোমবার দুদকের একটি দল সফটওয়্যারটি পরিদর্শনের জন্য বিএসইসি কার্যালয়ে যায়। তদন্তে দেখা গেছে, মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প সমাপ্তির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সফটওয়্যারটি এখনো স্থাপন ও হস্তান্তর করা হয়নি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ মেলে।
সার্বিক বিবেচনায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়েছে। তারা শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক ও বিএসইসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি কোনো খুদে বার্তার জবাবও দেননি।

