ভালো বেতনে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানিকগঞ্জের এক তরুণকে পাঠানো হয় কম্বোডিয়ায়। দালালরা তাকে জানায়, কম্পিউটারের সামনে বসে অনলাইনে গ্রাহক সহায়তার কাজ করতে হবে। থাকবে আকর্ষণীয় বেতন ও বৈধ কাগজপত্র। সরকারি ছাড়পত্র থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পার হওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো সন্দেহের সুযোগও ছিল না।
নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশ ছাড়েন ওই তরুণ। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই তার সামনে ভেঙে পড়ে সেই স্বপ্ন। তিনি বুঝতে পারেন, তাকে কোনো চাকরিতে নেওয়া হয়নি; বরং তিনি পড়েছেন একটি আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের হাতে।
ভুক্তভোগী তরুণ জানান, সেখানে তাকে জোর করে নারী পরিচয়ে ব্যবহার করা হতো। বিদেশিদের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বাধ্য করা হতো। ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, আবেগপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি এবং বিনিয়োগের নামে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করাই ছিল মূল কাজ।
তিনি আরও জানান, টেলিগ্রাম ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের সঙ্গে বার্তা চালাতে হতো। কীভাবে কথা বলতে হবে, কখন কী বলতে হবে, কখন বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলতে হবে—সবকিছুই আগে থেকে নির্ধারিত স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী করতে হতো।
শতাধিক মানুষের মধ্যে কয়েকজন সাড়া দিলে তাদের সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা হতো। এরপর ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জন করে অর্থ বিনিয়োগে প্ররোচিত করা হতো কিন্তু এসব কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালেই শুরু হতো নির্যাতন। মারধর, শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং বন্দিজীবনের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো তাকে।
নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রাখা ওই তরুণ দেশে ফিরে এসে জানান, পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। আন্তর্জাতিক একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই চক্র পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন। বিদেশে যাওয়ার আগে তিনি কাজ সম্পর্কে খোঁজ নিলেও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাননি। পরে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে তিনি বিদেশ যাত্রার প্রস্তুতি নেন। ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে চীনের গুয়াংজু হয়ে পরে কম্বোডিয়ায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে গ্রহণ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই থেকে তিন দিন রাখার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, শুরুতে কিছুই বুঝতে পারিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই বুঝে যাই, আমাদের চাকরি দেওয়া হয়নি; আমাদের বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে বিষয়টি বুঝতেই পারেননি কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এটি একটি সরাসরি প্রতারণা। এরপর থেকেই তিনি সেই কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে সেখান থেকে বের হয়ে আসার আর কোনো সুযোগ ছিল না।
তার ভাষ্যে, এসব স্ক্যাম সেন্টার কার্যত বন্দিশিবিরের মতোই পরিচালিত হয়। কর্মীদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। বাইরে যাওয়ার অনুমতি থাকে না। পাসপোর্টও প্রতিষ্ঠানই নিজেদের কাছে রেখে দেয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, কাজ না করলে অনেককে ‘টর্চার সেলে’ নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে মারধরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো নির্যাতনও করা হতো। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে যেতেন।
দেশে ফিরে অন্যদের সতর্ক করে মানিকগঞ্জের ওই তরুণ বলেন, কারও কথায় বিশ্বাস করে কম্বোডিয়া বা অপরিচিত কোনো দেশে যাওয়া উচিত নয়। আগে ভালোভাবে খোঁজ নিতে হবে এবং সবকিছু যাচাই করতে হবে। তার ভাষায়, সেখানে গিয়ে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, এসব স্ক্যাম সেন্টারে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ কাজ করতে বাধ্য হন। পুরো চক্রটি মূলত চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সতর্কতা তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার স্ক্যামের এই ধরনের ঘটনা মানবপাচারের ভয়াবহ একটি রূপ। ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হচ্ছে অনেক মানুষকে। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি ও যুব প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম নিয়ে সবার সচেতনতা জরুরি। এটি মানবপাচারের একটি ভয়াবহ ধরন, যেখানে বিদেশে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।
‘আম-জাম-তেঁতুল’ সাংকেতিক নামে বিমানবন্দর পার:
বিদেশে নিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে আটকে ফেলার পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত। ভুক্তভোগীদের দাবি, যাত্রাপথে ব্যবহার করা হতো বিশেষ কোড-নেম। কারও নাম দেওয়া হতো ‘আম’, কারও ‘জাম’, আবার কারও ‘তেঁতুল’। মানিকগঞ্জের ওই তরুণের কোড-নেম ছিল ‘তেঁতুল’। এই কোড ব্যবহার করেই তারা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পার হয়েছেন বলে অভিযোগ।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, কম্বোডিয়াগামীদের ক্ষেত্রে কোড-নেম ব্যবহারের বিষয়টি এখনো স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ইতালিগামী মানবপাচারের একটি ঘটনায় এ ধরনের কৌশল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
তদন্তে আরও উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি বলছে, অনেক ভুক্তভোগীর বিএমইটি কার্ড বৈধ থাকলেও যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে চাকরির ডিমান্ড লেটার দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অনেকেরই বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই অর্থাৎ কাগজপত্রের কিছু অংশ বৈধ মনে হলেও পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি প্রতারণামূলক হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চক্রগুলো মূলত প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং অনলাইনভিত্তিক কাজে অভিজ্ঞ তরুণদের টার্গেট করে। ফেসবুক, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, লিংকডইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে উচ্চ বেতন, বিদেশে চাকরি, থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং দ্রুত পদোন্নতির প্রলোভন দেখানো হয়। ভিসা, অফার লেটারসহ নানা নথি দেখিয়ে প্রস্তাবকে বিশ্বাসযোগ্য করা হয়।
কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেকের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রতিশ্রুত চাকরির বদলে তাদের বাধ্য করা হয় অনলাইন প্রতারণামূলক কাজে। কেউ অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। কিছু ক্ষেত্রে এক স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে অন্য কম্পাউন্ডে ‘বিক্রি’ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ডে অভিযান চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় অনেক অপারেটর পালিয়ে যায় এবং সেই সুযোগে অনেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দেশটির বিষয়গুলো থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দেখভাল করা হয়। এতে জরুরি সহায়তা ও দ্রুত হস্তক্ষেপে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসা, নিয়োগপত্র এবং চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি। বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া উচিত। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে গেলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা বাড়ছে, তাই শুধু ফেসবুক পোস্ট বা পরিচিত কারও কথায় ভরসা না করে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
এ বিষয়ে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও যুব প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম মানবপাচারের ভয়াবহ একটি রূপ। ভালো চাকরির প্রলোভনে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অনেক মানুষকে জোর করে অনলাইন প্রতারণায় যুক্ত করা হচ্ছে। লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে তারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
তিনি জানান, কম্বোডিয়ার অভিযানে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে বহু বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিন দিনে ২২১ জন বাংলাদেশির দেশে ফেরা এই বাস্তবতার প্রমাণ। ফেরত আসাদের অনেকেই মামলা করেছেন এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন কর্মী চাকরির উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে কম্বোডিয়া ও আশপাশের দেশ থেকে বহু বাংলাদেশি ভুক্তভোগী দেশে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে ১২ জুন ৩৭ জন, ১৩ জুন ৫৪ জন এবং ১৭ জুন ৭৮ জন দেশে ফেরেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে ৮ জন এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। তাদেরও একইভাবে প্রলোভন দেখিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অনলাইনে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামের মাধ্যমে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণাই মানবপাচারের নতুন ধারা: আসিফ মুনীর
অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, সময়ের সঙ্গে মানবপাচারের কৌশল ও ধরন বদলেছে। কম্বোডিয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাইবার স্ক্যাম চক্র সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি উদাহরণ। আগে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রধান গন্তব্য ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ তুলনামূলক কম খরচ, দ্রুত চাকরির সুযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে।
তিনি বলেন, প্রচলিত মানবপাচারের তুলনায় এই চক্রগুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে তুলনামূলক শিক্ষিত ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ তরুণদের। কম্পিউটারভিত্তিক চাকরি, কল সেন্টার কিংবা অনলাইন গ্রাহকসেবার কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। অনেকেই এসব প্রস্তাবকে বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ মনে করে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
আসিফ মুনীর মনে করেন, কম্বোডিয়ার মতো দেশে বাংলাদেশের সরাসরি দূতাবাস বা শক্তিশালী সরকারি উপস্থিতি না থাকাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যেসব দেশে কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সীমিত, সেখানে বিদেশগামী কর্মীদের বিষয়ে পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রতারণা ও মানবপাচার চক্রগুলো সুযোগ নেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে।
তার মতে, শুধু বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। কোন দেশে, কী ধরনের কাজে এবং কোন প্রক্রিয়ায় মানুষ যাচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিদেশে কর্মী পাঠানোর অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চাকরির বিষয়ে আরও কঠোর যাচাইব্যবস্থা থাকা দরকার।
বিদেশে আটকে পড়া মানুষদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই নিশ্চিতভাবে জানা যায় না, ভুক্তভোগীরা ঘোষিত গন্তব্য দেশেই আছেন, নাকি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অনেকের ব্যক্তিগত কাগজপত্রও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদেশে চাকরির প্রস্তাব পেলেই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ অনেক সময় বৈধ কাগজপত্রের আড়ালেও সুপরিকল্পিত প্রতারণার ফাঁদ লুকিয়ে থাকে।
বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থা কিংবা মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন, আইনি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

