রাজশাহী, রংপুর ও খুলনার তিনটি শহরের প্রধান মার্কেটে মূসক (ভ্যাট) নিবন্ধনের চিত্রে ভয়াবহ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। এই তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মার্কেটে মোট ৫৬৭টি দোকান রয়েছে যার মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে ৫৩৩টি দোকান। তবে চালু থাকা এসব দোকানের মধ্যে মাত্র ২৯২টি দোকান মূসক নিবন্ধন করেছে, বাকি ২৪১টি দোকান নিবন্ধন ছাড়া চলছে।
মূসক নিবন্ধন নেয়া ২৯২টি দোকানের মধ্যে মাত্র ৫৩টি দোকান নিয়মিতভাবে অনলাইনে মাসিক মূসক রিটার্ন দাখিল করছে। এর মানে হলো, ২৯২টি নিবন্ধিত দোকানের মধ্যে ২৩৯টি দোকান মূসক রিটার্ন দিচ্ছে না। এটি সরকারের রাজস্ব আহরণে বিশাল বাধা সৃষ্টি করছে। এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে ভ্যাট গোয়েন্দার সাম্প্রতিক জরিপে এবং এর ভিত্তিতে এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) চেয়ারম্যান তিনটি পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা শহরের বাইরে জেলা এবং বিভাগীয় শহরে বহু মার্কেট এবং শপিংমল গড়ে উঠেছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন মার্কেটের সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু মার্কেট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আবার কিছু মার্কেট জাঁকজমকপূর্ণ হলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। এসব মার্কেটের দোকান এবং শোরুমে ব্যাপক বিক্রি হলেও অনেক দোকান মূসক নিবন্ধন থেকে বাদ পড়ছে বা নিবন্ধন নিলেও নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দিচ্ছে না। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরের তিনটি মার্কেটের ওপর পরিচালিত জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনগুলোতে। ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি জরিপ টিম গঠন করা হয়েছিল। প্রথম টিম ১ জানুয়ারি রংপুর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে, ৬ জানুয়ারি রাজশাহীর থিম ওমর প্লাজায় এবং ৯ জানুয়ারি খুলনা শপিং কমপ্লেক্সে জরিপ পরিচালনা করে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জরিপের প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
রংপুর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে ৩২০টি দোকান রয়েছে, যার মধ্যে ৩১১টি দোকান চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৮২টি দোকান ভ্যাট নিবন্ধন পেয়েছে। কিন্তু মাত্র ১২টি দোকান নিয়মিতভাবে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করছে। রাজশাহীর থিম ওমর প্লাজার ৯৬টি দোকান রয়েছে যার মধ্যে ৬৫টি দোকান নিবন্ধিত। এর মধ্যে ৩৮টি দোকান নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করছে। খুলনা শপিং কমপ্লেক্সে মোট ১৪১টি দোকান রয়েছে যার মধ্যে ১২৬টি চালু রয়েছে। কিন্তু মূসক নিবন্ধিত দোকান মাত্র ৪৫টি এবং এর মধ্যে মাত্র তিনটি দোকান রিটার্ন দাখিল করে।
এদিকে এনবিআরের ২০১৯ সালের এক আদেশ অনুযায়ী, শপিংমলগুলোকে মূসক নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে এবং নিবন্ধন না নেওয়ার কারণে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট কমিশনারদের দ্রুত এসব মার্কেটের দোকানগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।
ভ্যাট গোয়েন্দার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধনহীন দোকান থেকে কোনো ভ্যাট আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসব দোকান সরকারের রাজস্ব থেকে বিরত রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ কারণে এনবিআর কর্তৃপক্ষ শিগগিরই এসব দোকানকে নিবন্ধন করানোর জন্য ব্যবস্থা নেবে।
এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারাদেশে অনেক ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠান এখনও নিবন্ধন নেয়নি। বিশেষ করে হোটেল, সুপারশপ, শপিংমল, সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত মার্কেট এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য এনবিআর ইতিমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসকে নিবন্ধন মাস হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং মার্চ মাসে নিবন্ধন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে সব নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন করা হবে এবং তারা ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করবে।

