রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট ও পবা উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন ও ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খননের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বর্ষা মৌসুমে পানি নদীতে প্রবাহিত করে জলাবদ্ধতা দূর করা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেই খালে পানি সংরক্ষণ করে কৃষকদের সেচ সুবিধা দেওয়া। কিন্তু বাস্তবতায় এই প্রকল্প কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে পরিণত হয়েছে এক জটিল সমস্যায়। এখন বর্ষাকালে কৃষকেরা জলাবদ্ধতায় ভুগছেন আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে হাহাকার করছেন।
২০১৯ সালের ২৪ মে উদ্বোধনের পর ২০২১ সালের শেষের দিকে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়। এর আওতায় বাঘার মুর্শিদপুর থেকে নওটিকা পর্যন্ত ৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার চারঘাটের মেরামতপুর কাঁকড়ামারী বিল থেকে পিরোজপুর পদ্মা নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং ইউসুফপুর পদ্মা নদী থেকে পবা উপজেলার কাঁটাখালী হয়ে ছত্রগাছি পর্যন্ত ১১ দশমিক ২০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়।
বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ২১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল খনন, ১ হাজার ৫৩৫ কিলোমিটার খালপাড়ে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, চারটি ফুট ওভারব্রিজ, ২০টি সৌরচালিত পাতকুয়া ও ১০টি সৌর এলএলপি স্থাপন করা হয়। তবে এসব স্থাপনা বেশির ভাগই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ির আশপাশে নির্মিত হয়েছে এবং তাদেরকেই এসবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে কৃষকেরা পাতকুয়া থেকেও সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না। প্রকল্প অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনার কথা থাকলেও সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি।
খালের পাশে ৮ হাজার ফলদ ও বনজ চারা রোপণের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো গাছ দেখা যায়নি। বরং খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহিত হতে পারছে না। আর শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
পিরোজপুরের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা কালভার্টের মুখে পুকুর খনন করায় পুরো কাঁকড়ামারী বিলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আগে শুধু বিলেই জলাবদ্ধতা ছিল এখন তা বাড়িঘরেও ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন, খাল খননের সময় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি নতুন সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাঘার মুর্শিদপুর-নওটিকা খাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মুর্শিদপুর থেকে চণ্ডীপুর পর্যন্ত খালটি এতটাই সরু যে কোথাও এটি মাত্র তিন ফুট প্রস্থের নালায় পরিণত হয়েছে আবার কোথাও চার ফুট চওড়া। অপরদিকে চণ্ডীপুর থেকে নওটিকা পর্যন্ত পুকুরের মতো খাল খনন করা হলেও তাতে পানি নেই। বেশির ভাগ জায়গাই ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
বাজু বাঘা ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে খালের কিছু অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকে কিন্তু বছরের বাকি সময় এটি পানিশূন্য থাকে। ফলে দখলদাররা বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলছেন।

