বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানসহ চার কর্মকর্তার দুর্নীতির তথ্য চেয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা থাকা সত্ত্বেও তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মন্ত্রণালয় হাবিবুর রহমানসহ আরো তিন কর্মকর্তার দুর্নীতির তথ্য চেয়ে বেবিচকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. শহীদুল আফরোজ, মো. জাকারিয়া হোসেন ও শুভাশীষ বড়ুয়া। চিঠিতে তাদের অতীত দুর্নীতির তথ্যসহ যদি কোনো মামলা থাকে তার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে বলা হয়েছে।
গত ৯ মার্চ ইস্যু করা চিঠির বিষয়ে বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২২ মার্চ প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান অবসরে যাচ্ছেন এবং ২৩ মার্চ পদটি খালি হবে। তবে তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে নানা মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চারটি মামলা হয়েছে এবং তার দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এরপরও তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কিছু কর্মকর্তা তৎপর বলে জানা গেছে।
শহীদুল আফরোজের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন। তবে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তবু বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। মন্ত্রণালয় চিঠিতে চার কর্মকর্তার দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে এবং দ্রুত তা পাঠানো হবে।
এদিকে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও হাবিবুর রহমানকে দিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ব্রিফ করানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাপক সমালোচনার মুখে হাবিবুর রহমান কক্সবাজারগামী বিমানের টিকিট বাতিল করতে বাধ্য হন। তার পরিবর্তে বিমানবন্দরের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির মামলা রয়েছে, তার নম্বর যথাক্রমে (ক)৮২/২০২৫, (খ)৮৩/২০২৫, (গ)৮৪/২০২৫, (ঘ)৮৫/২০২৫। এসব মামলায় আরো অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক, সাবেক যুগ্ম সচিব জনেদ্রনাথ সরকার, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান এবং সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, হাবিবুর রহমান বেবিচকের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেন কিন্তু কাজ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়।
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এসব আসামি দেশত্যাগ করতে না পারেন। বেবিচকের একটি সূত্র জানায়, হাবিবুর রহমানকে প্রকৌশল বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করেছেন এবং সেখানে নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে যেসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে, তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দর (প্রথম পর্যায়), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তিবৃদ্ধিকরণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২৫ মার্চ ২০২৪ থেকে ২২ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

