দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের ৩১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার ৮০৫ টাকা জব্দ করেছে। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সাইমা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার পরিবারের সদস্যদের টাকা ছিল।
আজ (১৮ মার্চ) ঢাকা অফিসে ACC’র মহাপরিচালক আখতার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আদালত ACC’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দেয়।
এর আগে, বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) হাসিনা ও তার পরিবারের ১২৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ৬৩৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা জব্দ করেছে। BFIU আরও ৮টি প্লটও জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি ৬০ কাঠার রাজউক প্লট, যার মূল্য ১.৮০ কোটি টাকা এবং ১০ দশমিক জমির মূল্য ৮.৮৫ কোটি টাকা।
এই তথ্য ১০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে জানানো হয়, হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সম্পত্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং কেম্যান দ্বীপপুঞ্জে পাওয়া গেছে।
মালয়েশিয়ায় একটি রাশিয়ান “স্লাশ ফান্ড”-এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি এমন একটি অ্যাকাউন্ট, যা অবৈধ কাজে ব্যবহৃত হয়।
তদন্তের পর ছয়টি মামলায় হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতারণা এবং জালিয়াতির। সাতজন পরিবারের সদস্যের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে সমাধানযোগ্য ১১টি অর্থপাচার মামলার মধ্যে হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাকে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
ACC ১০ মার্চ ছয়টি চার্জশিট অনুমোদন করেছে। এসব মামলায় হাসিনা, রেহানা, তাদের সন্তান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযুক্ত। এই মামলার মূল অভিযোগ পূর্বাচলে জমি বরাদ্দের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনিয়ম।
অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্র মন্ত্রী শরীফ আহমেদ, হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সচিব সালাউদ্দিন এবং ১৪ জন আবাসন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা রয়েছেন।

