সরকারি মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে কর্মরত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। দুর্নীতি দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি গঠিত জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এক মাস পর ২০ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং তাদের আওতাধীন দপ্তরগুলোর মধ্যে যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং জনমনে যাদের সম্পর্কে দুর্নীতিবাজ হিসেবে সাধারণ ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় গোয়েন্দা প্রতিবেদনকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নির্দেশনা বাস্তবায়নে সচিব, মহাপরিচালক, নির্বাহী পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ দপ্তরে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রমাণসাপেক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবেন।
এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা যায়, সরকারি দপ্তর ও সংস্থাগুলোর শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গত ৮ জানুয়ারি সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। এ কমিটি যুগ্ম সচিব ও তার ঊর্ধ্বতন স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে চায়। দুর্নীতি দমনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

