পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জিনিয়া জিন্নাত ও তার কথিত স্বামী মামলা বাণিজ্য, হয়রানি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগ ভুক্তভোগীশরাফুজ্জামান ওরফে মিনহাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি, মামলা বা এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করেছেন।
রোববার (২৩ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের কার্যালয়ে ৪০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দেন তিনি। যেখানে মোট ১৩টি অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, জিনিয়া জিন্নাত ও আশরাফুজ্জামান ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন। সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ ও রাজনীতিবিদদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচারের মতো অপরাধ তারা সংঘটিত করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, আশরাফুজ্জামান ২০০৮ সাল থেকে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ২০০৯ সালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তিনি নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জামাই পরিচয়ে প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিচার বিভাগের সদস্যদের ব্যবহার করে মামলা বানিয়ে অর্থ আদায় করা তার পেশায় পরিণত হয়।
এছাড়া আশরাফুজ্জামান নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিলেও অভিযোগ রয়েছে, তার সে পরিচয় ভুয়া। ৯৬টিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তিনি অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
অপরদিকে অভিযোগে বলা হয়েছে যে, জিনিয়া জিন্নাতের পিতা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন এবং জিনিয়া নিজেও ওই কোটায় বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। তাছাড়া নরসিংদীর শিবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে তার কথিত স্বামী মিনহাজ উদ্দিন নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে অভিযান চালানো জরিমানা আদায় ও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করার মতো অপরাধ করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডে জিনিয়া জিন্নাত সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জিনিয়া জিন্নাত টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে অনৈতিক সম্পর্কের ফলে গর্ভধারণ করেন এবং গোপনে সেই গর্ভের সন্তান নষ্ট করেন। এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি হাসপাতালের নথিতেও স্বামীর নাম উল্লেখ ছিল না।
এছাড়া সরকারি গাড়ি মেরামতের টাকা ও জ্বালানি খরচ পরিশোধ না করে চালকদের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে জিনিয়া জিন্নাতের বিরুদ্ধে। একাধিক চালক তার কাছে অর্থ পাওনার দাবি করেছেন, যাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কোরবানির কসাইয়ের টাকা পর্যন্ত পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার কথিত স্বামীকে বসিয়ে খাবার গ্রহণের ঘটনাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে আশরাফুজ্জামান ওরফে মিনহাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এমনকি তিনি নিজের পিতাকেও মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, জিনিয়া জিন্নাত তার বিরুদ্ধে দুদক ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাঠানো শোকজ নোটিশ গায়েব করেছেন। সরকারি মোবাইল ফোন নিয়ে ভারতে যাওয়ার বিষয়ে শোকজের জবাব না দিয়ে তিনি নথি সরিয়ে ফেলেন।
এই দুইজনের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে অভিযোগকারী পক্ষ।

