সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের সম্পদ নিয়ে বড় ধরনের তথ্য বেরিয়েছে। তার নামে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি রয়েছে। নাম ও বেনামে তিনটি দেশে তার ৫৭৮টি সম্পত্তি পাওয়া গেছে। এসব সম্পত্তি শনাক্ত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে। সিঙ্গাপুরেও তার সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে।
তার বেশিরভাগ সম্পত্তি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, হাউজিং ব্যবস্থা, ট্রেডিং কোম্পানি এবং হুন্ডি ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এসব সম্পদ বাংলাদেশ থেকে পাচার করা টাকায় অর্জন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব সম্পদ উদ্ধার করতে তিনটি দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব এমএলএআর ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট তিন দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
বিএফআইইউ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদের তথ্য জানাতে এগমন্ট গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে চিঠি পাঠিয়েছিল। এর ফলে তিনটি দেশে তার ৫৭৮টি সম্পত্তি পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি সম্পত্তি তার নামে সনাক্ত হয়েছে। এসব সম্পদের সপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। দেশটিতে আরও কিছু সম্পদ থাকতে পারে। এজন্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ৩৪৩টি সম্পত্তি পাওয়া গেছে। এর বেশিরভাগই বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। এগুলোর মূল্য তিন হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। যুক্তরাজ্যে তিনি হাউজিং ব্যবসা চালাচ্ছেন এবং পুঁজি পাচার করা টাকায় বিনিয়োগ করেছেন। ১৫ কোটি পাউন্ড বা আড়াই হাজার কোটি টাকার ২৮০টি সম্পত্তি তার নামে সরাসরি শনাক্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৭টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট তার নামে পাওয়া গেছে। সরকার এখন এসব সম্পদের উদ্ধারে কাজ করছে। সিঙ্গাপুরেও তার সম্পদ ও বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে এবং সেখানে তদন্ত চলছে।
বিএফআইইউ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সিআইডির যৌথ তদন্ত দল এ বিষয়ে কাজ করছে। এদের কার্যক্রম সমন্বয় করছে বিএফআইইউ। ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে ১২৫টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং ১৫ কোটি ৬ লাখ টাকার স্থিতি রয়েছে।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী অতিমাত্রায় টাকা পাচার করেছেন। ২০১৮ সালে ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) দখল করে ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচার করেন। ব্যাংক থেকে তার সহযোগীদের নামে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে, যার অধিকাংশই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে।
সাইফুজ্জামানের পিতা প্রয়াত আক্তারুজ্জামান চৌধুরীও লন্ডনে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও টাকা পাচারের অভিযোগ ছিল। পিতার মৃত্যুর পর সাইফুজ্জামান সেগুলো দেখাশোনা করছেন এবং নিজে কিছু সম্পদ বিদেশে পাচার করেছেন।
আলজাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৬০ কোটি ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং বাংলাদেশে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

