টেস্ট ড্রাইভের নাম করে ছিনতাই হওয়া টয়োটা হ্যারিয়ার মডেলের গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে যিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত গাড়িটির আনুমানিক মূল্য ৮৫ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার ভোরে গুলশানের ‘আমারি ঢাকা’ হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আহসান আহমেদ ওরফে মাসুম (৩৬)। তাঁর কাছ থেকে গাড়ির পাশাপাশি একটি ম্যাগাজিনসহ পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গাড়ি উদ্ধারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তার আহসান আহমেদ প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ এবং একজন পেশাদার অপরাধী। তিনি এর আগেও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। গাড়ি ছিনতাইয়ের পর তিনি মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার শর্তে অর্থ দাবি করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় গাড়ি ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, পরীবাগ গার্ডেন টাওয়ারে অবস্থিত ‘হইল ডিলস্’ (বারভিডা-১৭৯১) নামের একটি গাড়ির শোরুমের মালিক মাশরুর নাঈর (২৯) একজন জাপানি গাড়ির আমদানিকারক ও বিতরণকারী। ৭ মার্চ বিকেলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মাশরুর নাঈরকে ফোন করে টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি ওই ব্যক্তিকে নিজের বাসার গ্যারেজে গাড়ি দেখতে আসার আমন্ত্রণ জানান।
পরদিন ৮ মার্চ রাত সাড়ে সাতটার দিকে ওই ব্যক্তি গ্যারেজে আসেন এবং বাইরে আরও দুজন অবস্থান করছিলেন। পরে টেস্ট ড্রাইভের জন্য মাশরুর নাঈরের চাচাতো ভাই পিয়াল মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে তিনজন ব্যক্তি গাড়িতে ওঠেন। তারা রাত সোয়া আটটার দিকে শাহবাগ মেট্রোস্টেশনে পৌঁছালে গাড়িটি থামিয়ে এক ব্যক্তি পিয়াল মাহমুদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন এবং গাড়িটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
গাড়ি ছিনতাইয়ের কিছুক্ষণ পর ছিনতাইকারীরা মাশরুর নাঈরের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে মামলা না করার জন্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেন। পরে মাশরুর নাঈর ৯ মার্চ শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে এবং ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের এই সফল অভিযানের ফলে ছিনতাই হওয়া গাড়ি উদ্ধার হয়েছে এবং চক্রের একজন সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইকারী চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

