চুয়াডাঙ্গা জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও জেলা পুলিশ দাবি করছে, গত ছয় মাসে ঘটে যাওয়া প্রায় প্রতিটি অপরাধের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ছয়টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। চুরির মতো অপরাধের ঘটনা ঘটেছে অন্তত ২৯টি। একই সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ১৪টি এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০ জন নারী। এসব অপরাধের প্রেক্ষিতে জেলার পাঁচটি থানায় অন্তত ৭৭টি মামলা রুজু হয়েছে।
অপরাধের বিবরণে দেখা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি আলমডাঙ্গা-কুষ্টিয়া সড়কের জগন্নাথপুর-শ্রীরামপুর এলাকায় একটি ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেদিন গভীর রাতে ডাকাতদল রাস্তার ওপর গাছ ফেলে এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর তারা ট্রাক, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অ্যাম্বুলেন্স এমনকি লাশবাহী গাড়িও থামিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, কাপড়সহ যাত্রীদের অন্যান্য মালামাল লুট করে নেয়। চার দিন পর পুলিশের অভিযানে পাঁচজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে দুটি রামদা ও কিছু নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর জীবননগরের সন্তোষপুর-আন্দুলবাড়িয়া সড়কে আরো একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেদিনও ডাকাতরা রাস্তায় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রলি ফেলে পথরোধ করে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল লুট করে নেয়। পরে পুলিশের অভিযানে একজনকে আটক করা হয়।
২৫ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার এমইপি ইটভাটার ফার্মে সংঘটিত হয় আরেকটি সন্ত্রাসী ঘটনা। সেখানে নাইটগার্ডের হাত-পা বেঁধে ডাকাতরা চারটি গরু ও চারটি ছাগল নিয়ে পালিয়ে যায়।
চলমান অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস জানান, জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “পথে, বাড়িতে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনার কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন করা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”
তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমেনি। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও টহলের পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার অপরাধ পরিস্থিতির এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরাও।

