উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরেও প্রাইম ব্যাংক পিএলসি সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আহমেদের স্ত্রী এবং সন্তানের একশ কোটি টাকার এফডিআর ফেরত দিচ্ছে না। প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় রাখা এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হাসান আহমেদ মারা যাওয়ার পর তার উত্তরাধিকারী হিসেবে তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওয়ারিশ সনদসহ ব্যাংকে আবেদন করেন। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নানা টালবাহানা করতে থাকে।
এতে বাধ্য হয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেন। আদালতে প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, মতিঝিল শাখার ব্যবস্থাপক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। শুনানি শেষে গত ২৫ মার্চ আদালত জান্নাতুল ফেরদৌসের পক্ষে আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, হাসান আহমেদের এফডিআর তার উত্তরাধিকারীদের দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং প্রাইম ব্যাংকের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আদালত আরো নির্দেশ দেন, ওই অর্থ অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর না করতে এবং বাদী জান্নাতুল ফেরদৌসের দেওয়া আবেদনটি আইন অনুসারে নিষ্পত্তি করার জন্য প্রাইম ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, প্রাইম ব্যাংকের তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক হাসিনা ফেরদৌস শেলী তার স্বামীর ভাইদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থ সরিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, বারবার আবেদন করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নানা জটিলতা দেখিয়ে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, যদি দ্রুত তার প্রাপ্য অর্থ ফেরত না দেওয়া হয় তাহলে তিনি তার সন্তানদের নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করবেন।
এছাড়া জান্নাতুল ফেরদৌস আরও দাবি করেন, প্রাইম ব্যাংকের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা হওয়া ব্যাংক সম্পর্কিত অভিযোগের মধ্যে প্রাইম ব্যাংক শীর্ষে রয়েছে।

