ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় স্যালো বা ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিযোগিতা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এলাকার কিছু ব্যক্তি বছরের পর বছর ধরে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এই অবৈধ বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে কৃষিজমি ভরাট করে জমজমাট পোলাটিং ব্যবসাও গড়ে তুলেছেন তারা। এসব অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের মৃত লালমিয়া বেপারীর ছেলে নুরু বেপারীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নুরু বেপারী প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন এবং মাটি ব্যবসা চালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই পাকা সড়কের পাশের জলাশয়ে গভীর বোরিং করে ড্রেজার বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। এতে সড়কসহ আশপাশের স্থাপনা ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকালে চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঞ্চিরাম ডাঙ্গি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি পাকা সড়কের লাগোয়া ডোবায় বসানো হয়েছে অবৈধ ড্রেজার। সেখানে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে চলে বালু উত্তোলনের কাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, খেজুরতলা এলাকার নুরু বেপারী এই ড্রেজার বসিয়ে সম্প্রতি বালু উত্তোলন শুরু করেছেন। এর ফলে সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ কাঞ্চিরাম ডাঙ্গি গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, “ভূমি অফিসের লোকজন একবার এসে ড্রেজার বন্ধের নির্দেশ দিলে কয়েকদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু পরে আবার শুরু হয়। এলাকার মানুষ ড্রেজার বসানোর সময় বাধা দিলেও তারা কারো কথা শুনেনি। প্রতিবছর ড্রেজারের কারণে আমাদের জমি নদীতে চলে যাচ্ছে।”
অভিযুক্ত ড্রেজার মালিক নুরু বেপারী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার চালাচ্ছি। এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।”
তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবানা তানজিন জানান, “যে এলাকায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি কৃষি ও অবকাঠামোতেও চরম ক্ষতি হতে পারে। প্রশাসনের নীরবতা ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার অভাবে এলাকাজুড়ে এমন অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম এক ধরনের নিয়ন্ত্রণহীনতায় পরিণত হয়েছে।

