এক সময় যারা অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তারা আবারও দস্যুতায় জড়িয়ে পড়ছে। সুন্দরবন ও কক্সবাজার এলাকার অনেক জলদস্যু তাদের পুরনো পন্থায় ফিরে আসছে। তারা এখন সরাসরি বাহিনী চালায় না। বরং নতুন মুখদের দিয়ে বাহিনী পরিচালনা করছে। অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় তাদের পুরনো কৌশল। বর্তমানে সুন্দরবনে অন্তত ১০টি জলদস্যু বাহিনী নতুন করে গড়ে উঠেছে।
গত বছর ৫ আগস্ট গণ-আত্মসমর্পণের পর জানা গেছে, বেশিরভাগ আত্মসমর্পণকারী জলদস্যু আবারও দস্যুতায় ফিরে গেছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই এসব বাহিনী অন্তত ১৫০ জন জেলেকে অপহরণ করে। মুক্তিপণ হিসেবে তারা ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করেছে।
এ বছরের এপ্রিলের ৯ তারিখে বরগুনার পাথরঘাটায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া চারটি ট্রলারকে জলদস্যুরা আক্রমণ করে। এই সময় দুজন জেলে গুলিবিদ্ধ হন এবং দস্যুরা ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল করে পালিয়ে যায়। কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে মালিক সেলিম চৌধুরীর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।
কক্সবাজারেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সোনাদিয়া দ্বীপে একটি মাছ ধরার ট্রলার দস্যুদের কবলে পড়ে। তারা জেলে বেলালকে কুপিয়ে আহত করে এবং অন্যান্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মাছ, মোবাইল ও নগদ অর্থ লুট করে তারা পালিয়ে যায়। কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে ১৮ জন জলদস্যুকে আটক করে।
হাতিয়াতেও জলদস্যুদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ৬ এপ্রিল হরণী ইউনিয়নের বয়রার চর থেকে জলদস্যু আব্দুর রব ও তার সহযোগী আহছান উল্লাহকে আটক করা হয়।
তবে আত্মসমর্পণকারী সবার অবস্থা একরকম নয়। কিছু আত্মসমর্পণকারী সৎ পথে ফিরে গেছেন। তারা মাছ শিকার, লবণ চাষ বা নাইট গার্ড হিসেবে কাজ করছেন। কেউ কেউ জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন। তবে কিছু আত্মসমর্পণকারী গোপনে আবারও দস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। গোয়েন্দারা তাদের পর্যবেক্ষণ করছে।
২০১৬ সালে র্যাবের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এর পর থেকে সুন্দরবন, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেক জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। কিছু আত্মসমর্পণকারী নতুনভাবে আবারও দস্যুতায় জড়িয়েছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ বলেন, “আমরা জলদস্যুদের পুনঃতৎপরতা সম্পর্কে অবগত আছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা কাজ করছি।”
কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক জানান, ২০১৮ সালে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি দস্যু তৎপরতা আবারও বেড়ে গেছে। মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে।
সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুদের পুনঃতৎপরতা একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় জনগণ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই হুমকি মোকাবিলা করা এখন জরুরি।

