চট্টগ্রামের একটি মোবাইল ব্যাংকিং ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের আড়ালে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর খালাতো ভাই মোহাম্মদ মামুন সালাম ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে। ‘সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টাকা সংগ্রহ করে হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছে চীন, মালয়েশিয়া, দুবাই, ভারত ও পাকিস্তানে- এমন তথ্য পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামুন সালাম, কানিজ ফাতেমা, পাচারকারী তানভীর হাসান, তার বড় ভাই মালয়েশিয়াপ্রবাসী সজল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করে সিআইডি। তদন্তে উঠে আসে, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের তথ্যমতে, এই প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে শতাধিক ব্যবসায়ী বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানির কথা বলে টাকা পাঠিয়েছেন। যদিও এসব লেনদেনের বিপরীতে পণ্য আদৌ দেশে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অনেকেই আবার চিকিৎসা, স্বর্ণ ক্রয় বা মুক্তিপণ প্রদানের আড়ালে এই চ্যানেলে অর্থ পাঠিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য লেনদেনের মধ্যে রয়েছে—
- চীন থেকে মোবাইলসামগ্রী আমদানির নামে ব্যবসায়ী আল আমিন ও ওয়াজকুরুনীর ১৬ লাখ টাকা
- ইলেকট্রনিকস পণ্য ও সফটওয়্যারের নামে মানিক রায়ের ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা
- পাকিস্তান ও ভারত থেকে পণ্য ও চিকিৎসার খাতে পাঠানো প্রায় ১১ লাখ টাকা
- লিবিয়ায় মানব পাচারের শিকার স্বামীর মুক্তিপণের জন্য এক নারীর জমা দেওয়া ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা
এছাড়া তানভীর নামের এক ব্যক্তি সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যাংক চ্যানেল ব্যবহার করে তার ভাই সজলকে দুই দফায় ১ কোটি টাকা পাঠান, যা সজল মালয়েশিয়ায় রিঙ্গিত হিসেবে গ্রহণ করেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ইয়াসিন জানান, “মানি লন্ডারিংয়ের মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনায় শুধু মোবাইল ব্যাংকিং নয়, দেশের বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

