জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জে পোলট্রি খামারি ও হ্যাচারি ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন (টুকু) ও তাঁর স্ত্রী বিলকিস আরার বাসায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২০ জুন) গভীর রাতে ছয়জন মুখোশধারী ডাকাত বাসায় প্রবেশ করে দম্পতিকে মারধর করে বেঁধে রাখে এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দামি ঘড়ি লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শনিবার আক্কেলপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি জামালগঞ্জ বাজারের পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সড়কের পাশে ইসমাইল হোসেনের ‘নীড়’ নামক বাসায় সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে ইসমাইল হোসেন, তাঁর স্ত্রী বিলকিস আরা ও গৃহপরিচারিকা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দুইটার পর ছয়জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল রান্নাঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইসমাইল ও বিলকিসকে মারধর করে এবং একটি কক্ষে বেঁধে আটকে রাখে। এরপর বাসার নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার আসবাব ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ছয়টি দামি ঘড়ি লুট করে।
বিলকিস আরা দাবি করেন, ডাকাতেরা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নগদ, দেড় শ ভরি স্বর্ণালংকার এবং তিন লাখ টাকা মূল্যের ছয়টি হাতঘড়ি লুট করেছে। তবে মামলায় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার, পাঁচ লাখ টাকা ও তিন লাখ টাকার ঘড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসমাইল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন, যিনি মামলার বাদী- বলেন, “পুলিশের পরামর্শে আমরা মামলায় ৩০ ভরি স্বর্ণের কথা উল্লেখ করেছি। স্বর্ণের পরিমাণ নয়, আমরা দ্রুত লুট হওয়া জিনিসপত্র উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।”
বিলকিস আরা জানান, “পাঁচজন ডাকাত ঘরে ঢুকেছিল, একজন বাইরে পাহারায় ছিল। তারা আমাদের চাপাতি দিয়ে আঘাত করে এবং মারধর করে একটি ঘরে আটকে রাখে। আমার ঘরে পাঁচ লাখ টাকা ও এক শ ভরি স্বর্ণ ছিল, আর ছেলের ঘরে ৫০ ভরি স্বর্ণ ছিল। সব লুট করে নিয়ে গেছে।” তিনি আরো বলেন, ডাকাতদের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাদের সবার মুখ বাঁধা ছিল এবং হাতে চাপাতি ছিল।
রাসেল হোসেন বলেন, “আমি বগুড়ায় ছিলাম। ডাকাতির খবর পেয়ে ছুটে এসেছি। মা-বাবাকে মারধর করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, ডাকাতদের বয়স ৩০-এর মধ্যে হবে।”
শনিবার সকালে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আরিফ হোসেন ও আক্কেলপুর থানার ওসি মাসুদ রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি মাসুদ রানা জানান, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। মামলায় ৩০ ভরি স্বর্ণ, পাঁচ লাখ টাকা ও তিন লাখ টাকার ঘড়ির কথা উল্লেখ আছে। প্রাথমিকভাবে বিলকিস আরা দেড় শ ভরি স্বর্ণের কথা বললেও, গৃহকর্তা ইসমাইল হোসেন ৳০ ভরি স্বর্ণের কথা নিশ্চিত করেছেন। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছি এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।”
স্থানীয়রা জানান, ইসমাইল হোসেনের বাসাটি জামালগঞ্জ বাজারের মধ্যে অবস্থিত এবং বেশ সুরম্য। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে।

