দেশজুড়ে হাম পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগটির উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে হাম বা হামসদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৮০ জনে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৬৩ জনের শরীরে হাম অথবা এর উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে ৬২ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের মধ্যে রোগটির লক্ষণ ও উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৯২ হাজার ৭৯০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ হাজার ১১ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। আক্রান্তের এই সংখ্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোগটির বিস্তারের মাত্রা তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসের কিছু বেশি সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৬ হাজার ৮৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৭২ হাজার ৮৪৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। যদিও নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতের ওপর চাপ পুরোপুরি কমেনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া অপুষ্টি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেও জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
ক্রমাগত নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের বিস্তার এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা ও রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

