জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সরকারি ২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, তথ্য অনলাইনে এন্ট্রির আগেই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নগদ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বিদ্যালয় প্রধানরা।
বিষয়টি ধরা পড়ে তথ্য এন্ট্রির সময়। দেখা যায়, পুরনো শিক্ষার্থীদের স্থানে হঠাৎ নতুন এবং অপরিচিত মোবাইল নম্বর যুক্ত হয়েছে।
আগেও টাকা লোপাট হয়েছিল
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কালাইয়ের একই ২৭টি বিদ্যালয়ের ৯৬৭ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল চক্রটি। তখন কয়েক লাখ টাকা চুরি হয়।
তদন্তের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তৎকালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ বছরের শুরুতে ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি শুরু হলে আবারও ২৭টি বিদ্যালয়ে একই সমস্যা দেখা দেয়। ক্লাস্টার পর্যায়ের অনুমোদন ও চাহিদা পাঠানোর আগেই কিছু অভিভাবকের নগদ অ্যাকাউন্ট নম্বর পরিবর্তিত হয়ে যায়। অনুমোদনের পর সেই নম্বর চলে যায় হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে।
শিক্ষকদের উদ্বেগ
একডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাকিম বলেন,
“আগে ২৭টি স্কুলে হ্যাকিং হয়েছিল। এখন পুরো উপজেলার জন্য আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অন্য উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়বে।”
মাদাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মজিদ বলেন,
“জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব নয়। তাহলে ভিন্ন নম্বর কীভাবে যুক্ত হচ্ছে? মনে হচ্ছে, সফটওয়্যারের ভেতরেই গলদ আছে।”
কালাই মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন,
“এটা শুধু প্রযুক্তি নয়, সফটওয়্যার নিরাপত্তা এবং বিশ্বাসযোগ্যতারও প্রশ্ন। হয়তো কেউ নকল সফটওয়্যার দিয়ে তথ্য পাচার করছে।”
প্রশাসনের অবস্থান
কালাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদুল আলম জানান,
“তথ্য এন্ট্রি আটকে যাওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান বলেন,
“এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধানের আশা করছি।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান,
“বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। হ্যাকার শনাক্ত ও নম্বর পরিবর্তনের উৎস খুঁজে বের করতে সাইবার অপরাধ দমন সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।”
সরকারি অর্থ হস্তান্তরের ডিজিটাল ব্যবস্থায় যদি নিরাপত্তা না থাকে, তবে শিশুদের প্রাপ্য সুবিধাও লোপাট হয়ে যাবে। কালাইয়ের এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিল—সঠিক নজরদারি, সফটওয়্যার নিরাপত্তা এবং জবাবদিহির অভাব কীভাবে জনগণের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

