সরকারি মালিকানাধীন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে তেল ‘চুরি’ করতে অভিনব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এতে জ্বালানি তেল পরিবহনের একটি ট্যাংকলরির প্রকৃত ধারণক্ষমতা গোপন করে চুক্তি করা হয়। লরির সাড়ে ১৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা থাকলেও চুক্তিতে মাত্র ৯ হাজার লিটার দেখানো হয়।
যমুনা অয়েল কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, লরিতে বাড়তি তেল দিয়ে ডিপোর বাইরে পাঠিয়ে চুরি করা উদ্দেশ্য ছিল। অভিযোগ উঠেছে, জালিয়াতিতে কোম্পানির কিছু কর্মকর্তা ও ট্যাংকলরির মালিক জড়িত। সূত্র বলছে, খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে তেল পরিবহনের জন্য গত ২৭ জুলাই মেসার্স আছিয়া এন্টারপ্রাইজের একটি ট্যাংকলরির সঙ্গে চুক্তি হয়। কয়েক দিন পর বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেল পাঠানো হয় কিন্তু লরির প্রকৃত ধারণক্ষমতা বেশি থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীলরা তেল গ্রহণে আপত্তি জানান।
সরকারি মালিকানাধীন যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা কোম্পানিগুলো সড়কপথে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহনের জন্য লরি ভাড়া নেন। এই প্রক্রিয়ায় লরির সঠিক তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক। ট্যাংকলরির অসামঞ্জস্যতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মালিক ও শ্রমিকরাও আপত্তি জানান।
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, লরির প্রকৃত ক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার লিটার হলেও ৯ হাজার লিটার দেখানো হয়েছে। এ ধরনের জালিয়াতি করার নিয়ম নেই। তাই মালিক-শ্রমিকরা আপত্তি করেছেন।
চুক্তি করার আগে লরির সক্ষমতা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে যাচাই করে সনদ নিতে হয়। আছিয়া এন্টারপ্রাইজের লরির জন্য বিএসটিআই খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে সনদ নেওয়া হয়েছে। সনদে ৯ হাজার লিটার দেখানো হলেও, যাচাইয়ে দেখা যায় এটি জাল। কিউআর কোড স্ক্যান করলে অন্য লরির তথ্য পাওয়া গেছে।
আছিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. মানিক শেখ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভুলবশত লরির প্রকৃত ক্ষমতা কম দেখানো হয়নি। আপত্তির কারণে তিনি চুক্তি প্রত্যাহার করেছেন। ১৮ আগস্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে চুক্তি বাতিল ও জামানত ফেরত চাওয়া হয়।
যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তফা কুদরত-ই-ইলাহী বলেন, লরির প্রকৃত ক্ষমতা ও সনদের বৈষম্যের কারণে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি কীভাবে হলো তা তদন্ত করা হবে।
তবে কোম্পানির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুরির তেল ট্যাংকলরিতে ভরা হয়ে ডিপোর বাইরে পাঠানো হতো। প্রতি লরিতে কিছু করে বাড়তি তেল দেওয়া হতো। পরে তা কারিগরি ক্ষতির হিসেবে দেখানো হতো। এই জালিয়াতির উদ্দেশ্য স্পষ্ট, কারণ যমুনায় তেল চুরির ঘটনা নতুন নয়।

