নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ডাকাত সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলার দুই ইউনিয়নে একমাসের মধ্যে অন্তত তিনটি পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার ভোরে বিশনন্দী ইউনিয়নের দড়ি বিশনন্দী গ্রামে ডাকাত সন্দেহে ৩২ বছর বয়সী নবী হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বিশনন্দীর পার্শ্ববর্তী উচিৎপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম আগুকান্দি গ্রামের লইক্কা হোসেনের ছেলে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘দড়ি বিশনন্দীর একটি বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টার সময় অন্তত চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।’ তিনি আরো জানান, গ্রামে ডাকাত উপস্থিতি সম্পর্কে মসজিদের মাইকে ঘোষণা করলে স্থানীয়রা ডাকাত দলকে ধাওয়া করে, এরপর নবী হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ডাকাতদের আঘাতে আহত হয়েছেন—ইলিয়াস মিয়ার স্ত্রী কুলসুম বেগম (৪০), ছেলে নাঈম মিয়া (১৮), তাদের আত্মীয় ফারুক মিয়া (৪৫) এবং আবুল হোসেন (২৮)। কুলসুম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, ভোররাত আড়াইটার দিকে বৃষ্টি পড়ছিল। কুলসুম রান্নাঘরে গিয়েই তিন-চারজনকে দেখে ডাকাত বলে চিৎকার করেন। তখন অন্যরা বেরিয়ে এলে ডাকাতরা তাদের কুপিয়ে জখম করে। মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর গ্রামবাসী নবী হোসেনকে একটি বিল থেকে বের করে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নবী হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য নেই।
এর আগে একমাসের মধ্যে আড়াইহাজার উপজেলার দুটি ইউনিয়নে আরও দুইটি পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোহেলকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তার পরিবারের দাবি, মাদক চোরাকারবারের বিরোধিতার কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
৮ সেপ্টেম্বর রাতে একই উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের প্রভারকরদী গ্রামের বাসিন্দা মো. আয়নাল হোসেনকে তার বাড়ির কাছাকাছি পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, ৪২ বছর বয়সী আয়নালের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ধর্ষণসহ অন্তত আটটি মামলা ছিল।

