ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়ায় নতুন স্টার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘স্টেবল কয়েন’। ২০১৪ সালে মার্কিন কোম্পানি টিথার লিমিটেড এটি চালু করে। মূল উদ্দেশ্য, ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম ওঠা-নামার ঝুঁকি কমিয়ে ব্যবহারকারীদের জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এটি মূলত ডলারের সাথে পেগড; অর্থাৎ এক স্টেবল কয়েনের মান এক ইউএস ডলারের সমান।
টিথারের সফলতার পর যুক্তরাষ্ট্রের সার্কেল, কয়েনবেজ এবং চীনের বাইন্যান্সের মতো বড় ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানগুলোও স্টেবল কয়েনে পা রেখেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য, ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল লেনদেনে স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশেও সম্প্রতি প্রবাসী রেমিট্যান্সে স্টেবল কয়েনের ব্যবহার বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে দেশে এসেছে ২২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রবাহের কারণে দেশীয় রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রবাসীরা অতিরিক্ত প্রণোদনাও পাচ্ছেন।
ক্রিপ্টো ব্লকচেইন পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান চেইনালাইসিস বলছে, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীরা স্টেবল কয়েন ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টিথার দিয়ে দ্রুত লেনদেন করছেন, এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা মাত্র কয়েক মিনিট সময় নিচ্ছে।
একই সাথে, মার্কিন প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে এখন বিশ্বে দাপট বাড়াচ্ছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ক্রিপ্টো গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১২৫ শতাংশ। লেনদেনের খরচও কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব বলেন, “যদি কোনো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কিছু করার অনুমতি থাকে, মানুষ নিজ সিদ্ধান্তে করে। কিন্তু বিপদে পড়লে সবাই সরকারকে দোষ দেয়। স্টেবল কয়েনের স্থিতিশীলতা মোটামুটি নিশ্চিত, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল কারেন্সি ভিন্ন, যা নিয়ন্ত্রিত এবং ওঠা-নামা বেশি। সাধারণ মানুষের কি এই ঝুঁকি বোঝার সক্ষমতা আছে?”
বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন আইনত নিষিদ্ধ থাকলেও, দেশীয় ব্যবহার দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর দ্বিতীয় এবং বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের তরুণরা বিদেশ থেকে পেমেন্ট আদায়ে ক্রিপ্টো ব্যবহার করছেন। অনলাইন গেমিং ও বেটিং সাইটেও ক্রিপ্টো জনপ্রিয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি এড়াতে নিত্যনতুন গেটওয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জাইতুন বিজনেস সল্যুশনের চেয়ারম্যান মো. আরফান আলী বলেন, “স্টেবল কয়েন ব্যবহার হলে বৈধভাবে সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশে আসা উচিত। না হলে সন্দেহ তৈরি হয়। এ বিষয়গুলো ব্যাংক বা বৈধ মানি ট্রান্সফার এজেন্সির মাধ্যমে করতে হবে।”
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)ও ক্রস-বর্ডার পেমেন্টে স্টেবল কয়েন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছে। তবে বাণিজ্যে এর প্রভাব ও ঝুঁকি পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা যায় না। আইএমএফ স্টেবল কয়েন নিয়ন্ত্রণে আলাদা আইন প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছে।

