এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছয়টি পরিবহন খাতে, দুটি আবাসন এবং দুটি নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশ উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাই, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতি, অর্থায়ন অনুমোদন ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ের পর্যালোচনার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এগুলো পর্যায়ক্রমে পরিকল্পনা কমিশন ও একনেকে উপস্থাপন করা হবে।
পরিবহন খাতের প্রকল্পগুলো মূলত নগরীর যানজট কমানো এবং সংযোগব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আউটার রিং রোডের দ্বিতীয় ধাপ, অক্সিজেন মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ সড়ক সম্প্রসারণসহ একাধিক প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, কর্ণফুলী টানেল ও বন্দর এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
আবাসন খাতে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যেখানে নতুন আবাসিক প্লট উন্নয়ন করা হবে। নগর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ফতেয়াবাদ এলাকায় নতুন টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রীয় চাপ কমাতে বিকল্প নগরায়ণ গড়ে তোলার উদ্যোগও রয়েছে।
তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিডিএ জানিয়েছে, সংস্থাটির নিজস্ব আয়ের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব প্রকল্পে সরকারি অর্থায়নের ওপরই নির্ভর করতে হবে। অতীতে কিছু প্রকল্পে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নের শর্ত থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় এই ধরনের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা সময়োপযোগী। তবে প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, অর্থায়ন সংকট এবং সমন্বয়ের ঘাটতি কাটাতে না পারলে প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না। নগর পরিকল্পনায় ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এই বিনিয়োগই চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক মেগাসিটিতে রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।