Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, এপ্রিল 23, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বাজেটে যেসব খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি
    অর্থনীতি

    বাজেটে যেসব খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি

    নিউজ ডেস্কUpdated:এপ্রিল 23, 2026এপ্রিল 23, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বাজেট প্রণয়ন করা সব সময়ই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়নের কাজটি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, দেশের অর্থনীতির সব সূচকই নিম্নমুখী রয়েছে। আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

    ঢালাওভাবে বাজেট প্রণয়ন করলে চলবে না। একইসঙ্গে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন কোন দিক ভালো হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারিনি, সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে। চলতি অর্থবছরের জন্য বাস্তবায়নাধীন বাজেটে কোন কোন খাতে উপযোগিতা না থাকা সত্ত্বেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের জন্য বাস্তবায়নাধীন বাজেটের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে এমনভাবে বাজেট প্রস্তাব প্রণয়ন করতে হবে, যেন আগামী অর্থবছরের বাজেটে একই ভুল আর না হয়।

    বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, তা হলো বাজেট বাস্তবায়নের জন্য কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে এবং সেই অর্থ কীভাবে এবং কোথা থেকে সংগৃহীত হবে, সেই খাতগুলো নির্ধারণ করা। আগামী অর্থবছরের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে কী পরিমাণ সম্পদ পাওয়া যাবে এবং বাইরে থেকে কী পরিমাণ সম্পদ আহরণ করতে হবে, তা নির্ধারণ করতে হবে। দেশের রাজস্ব আহরণের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা।

    আগের বছরের পুরো সময়ে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে আমাদের বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। আগামী অর্থবছরের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা চাওয়া হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু এ পরিমাণ অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

    এমনকি ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড (আইএমএফ) ইতঃপূর্বে যে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে, তার কিস্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যথেষ্ট মাত্রায় সংস্কার কার্যক্রম করা না হলে তারা অনুমোদিত ঋণের কিস্তি ছাড় করবে না। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের জন্য অর্থপ্রাপ্তি একটি বড় ধরনের সমস্যা হিসাবে দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় বাজেটে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম।

    বাজেট অর্থায়নের ক্ষেত্রে ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) কতটা আনা যাবে, তা অনেকটা নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট কতটা বাড়ানো যাবে, তার ওপর। প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্টের চিত্র খুব একটা ভালো নয়।

    সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা যায়, দেশের জিডিপি-প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট রেশিও দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি বিগত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এফডিআই আহরণের চিত্রও খুব একটা সন্তোষজন নয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর কোয়ার্টারে যে পরিমাণ এফডিআই আহরিত হয়েছে, তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর কোয়ার্টারে বাংলাদেশ মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার এফডিআই আহরণ করেছে। আগের বছরে একই সময় এর পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ২৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। আলোচ্য সময়ে পুনঃবিনিয়োগকৃত মুনাফা কমেছে ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর কোয়ার্টারে রিইনভেস্টেড আর্নিংস দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৭৪ লাখ মার্কিন ডলারে।

    আগের বছর এ সময়ে এটি ছিল ৩২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে অনেকদিন ধরেই বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশের অভাব প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নানা সীমাবদ্ধতায় প্রাইভেট সেক্টরের উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেকটাই দ্বিধান্বিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক শুমারির ফলাফলে দেখা গেছে, গত এক দশকে বাংলাদেশে অর্থনেতিক ইউনিট বেড়েছে ৫০ শতাংশ। ২০১৩ সালে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট ছিল ৭৮ লাখ।

    আর ২০২৩ সালে এসে তা ১ কোটি ১৭ লাখে উন্নীত হয়েছে। অর্থনৈতিক ইউনিট যে হারে বেড়েছে, কর্মসংস্থান সেখানে বৃদ্ধি পায়নি। বর্ণিত সময়ে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক ইউনিট বলতে এমন কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে স্থায়ীভাবে অথবা অস্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বা ব্যবসায় পরিচালিত হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের ৮৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মূলধনের অভাব। ব্যাংকগুলো তাদের প্রত্যাশামতো অর্থায়ন করছে না।

    দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা তাদের ঋণদান ক্ষমতা সংকুচিত করে ফেলেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এখন তা ৫ লাখ ৪৫ হাজার কোটিতে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা অর্থায়নের জন্য প্রধানত ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে থাকে; কিন্তু ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের চাহিদামতো ঋণদান করতে পারছে না। উন্নত দেশগুলোয় দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য প্রধানত পুঁজিবাজারের ওপর নির্ভর করা হয়; কিন্তু আমাদের দেশের পুঁজিবাজার সেভাবে বিকশিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

    নতুন সরকার চাইবে বাজেটে তার নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করতে। সরকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। আমার বক্তব্য হচ্ছে, সরকার তার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করুন, তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

    ঢালাওভাবে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা ঠিক হবে না। যেমন : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রতিবেদন ঘোষণা করা হয়েছে। এ পে-স্কেল একবারে বা রাতারাতি বাস্তবায়ন করা ঠিক হবে না। অন্তত তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। বাজেটে শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। ইউনেস্কোর মতে, একটি দেশের শিক্ষা খাতে মোট জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন।

    আমাদের এখানে শিক্ষা খাতে ব্যয় বরাদ্দের পরিমাণ জিডিপির ২ শতাংশেরও কম। এ অর্থের একটি বড় অংশই অবকাঠামোগত নির্মাণকাজে ব্যয় করা হয়। ফলে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় খুবই কম। শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। বাস্তব কারণেই একবারে হয়তো জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ধীরে ধীরে এ খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। শিক্ষা উন্নয়ন ব্যতীত কোনো দেশ কাক্সিক্ষত মাত্রায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি অর্জন করতে পারে না।

    আমি মনে করি, আগামী অর্থছরের জন্য প্রণীত বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে রিসোর্স মবিলাইজেশনের বিষয়টি। বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি। বিগত চার বছরের বেশি সময় দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। মূল্যস্ফীতির হার ৯ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যস্ফীতি আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

    আইএমএফ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়বে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও কিছুটা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক বলেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। আর এডিবি বলেছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ শতাংশ।

    আইএমএফ আরও বলেছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। মূল্যস্ফীতির হার ডাবল ডিজিট অতিক্রম করে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

    পণ্য রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি আট মাস ধরেই নিম্নমুখী। বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করে গেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকেই কর্মচ্যুত হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পণ্য ও জনশক্তি রপ্তানি আয় গতিশীল করতে না পারলে আগামী দিনে বাংলাদেশকে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে।

    এ মুহূর্তে আমাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে আয় বাড়ানো। এজন্য ট্যাক্স বেইজ বাড়াতে হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক কর আদায় নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ৭ শতাংশের কম। অথচ সাধারণভাবে একটি দেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ১৫ শতাংশ হওয়া উচিত।a

    আমাদের যে কোনো মূল্যেই হোক ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও বাড়াতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। উচ্চ হারে কর ধার্য করার পরিবর্তে করহার কমিয়ে হলেও আদায় বাড়াতে হবে। কর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে হবে। কর প্রদানযোগ্য অথচ কর নেটওয়ার্কের বাইরে আছে, এমন সবাইকে করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যে সংস্কার করে এসেছিলাম, তাকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর আদায় ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে হবে। ট্যাক্স পলিসি এবং রেভিনিউ পলিসি আলাদা করতে হবে।

    প্রশাসনিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উপযোগিতা বিবেচনা করতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে অবস্থা বিরাজ করছে, তাতে আমাদের উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেসব উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে, সেগুলো যথাসম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে যাতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    বাংলাদেশ তার চাহিদাকৃত জ্বালানির ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মিটিয়ে থাকে। আগামী দিনে আমাদের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা যথাসম্ভব কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সোলার এনার্জি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়াতে হবে। অভ্যন্তরীণ ভাগে এবং সমুদ্র সীমানায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আমরা যদি জ্বালানি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে মেটাতে থাকি, তাহলে ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে হবে। নতুন সরকার অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাদের সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে।

    দেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে বিপর্যয়কর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। একশ্রেণির উদ্যোক্তা ঋণের নামে ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংককে একীভূত করে ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক নামে নতুন একটি ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সেই উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে। ব্যাংক লুটেরারা যাতে ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে না আসতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে ব্যাংকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গেছে।

    আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংক স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেই ব্যাংকগুলো এখন আর ভালোভাবে চলছে না। এসব ব্যাংকের ব্যাপারে এখনই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজার প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জনের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। তারা যদি তা করতে না পারে, তাহলে এসব ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার অথবা অবসায়ন করা যেতে পারে। সরকারি সহায়তা দিয়ে ব্যাংক চালানোর কোনো মানে থাকতে পারে না। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলো নিয়েও আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। জনতা ব্যাংকের অবস্থা খুবই খারাপ, অন্য কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পাঁচটি ব্যাংক থাকার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

    লেখকঃ: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ 

    অর্থনীতিবিদ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    চীন ইরানকে অস্ত্র দিচ্ছে বলে যে জল্পনা-কল্পনা হচ্ছে—তা কেন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন?

    এপ্রিল 23, 2026
    অর্থনীতি

    বন্ধ ছয় সরকারি পাটকল ছয় মাসের মধ্যে চালু হবে

    এপ্রিল 23, 2026
    অর্থনীতি

    বায়রার নতুন প্রশাসক মোহাম্মদ বদরুল হক

    এপ্রিল 23, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.