বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে আবারও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২৫ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ২৫৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংস্থাটির মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের মতে, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৩১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স—যা অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা।
গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রবৃদ্ধি আরও স্পষ্ট। ২০২৫ সালের একই সময়ে দেশে এসেছিল ২২৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের (জুলাই থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত) হিসাবেও এই ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৭৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৯.৮০ শতাংশ বেশি।
বিশেষ করে মার্চ মাসে রেমিট্যান্সে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। ওই মাসে দেশে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এই ধারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে। প্রথমত, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে, যা সরকারি নীতির ইতিবাচক প্রভাবকে তুলে ধরে। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রবাসী আয়ের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি দিচ্ছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে প্রবাসী শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রণোদনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
সিভি/এইচএম

