বাংলাদেশে বাণিজ্যিক পশুখাদ্য বা ফিড শিল্পের যাত্রা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। সেই সময় থেকেই এই খাত ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে। দীর্ঘ এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটি তিন দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন ফিড শিল্পের বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদার হিসেবে অবস্থান করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন, বাজার সম্প্রসারণ এবং শিল্পে অবদান—সব ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটির উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়েছে।
কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেডের দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তা পরিচালক এম. বাসির রহমান ফিড শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তিনি খাতটির বিদ্যমান সংকট, উচ্চ করহার এবং নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি টেকসই কৃষি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনের ভবিষ্যৎ পথনকশার কথাও তুলে ধরেন। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে নীতি সহায়তা, স্থিতিশীল পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।
শুরুতে আপনি যে সেক্টরে কাজ করছেন—ফিড বা পশুখাদ্য, সেই খাতের বিকাশ সম্পর্কে জানতে চাই।
আমি পাঁচ বছর ধরে এ শিল্পে কাজ করছি। আমার প্রতিষ্ঠানের নাম কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেড। আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে ১৯৯৫ সালে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। একই সঙ্গে এ শিল্পেরও যাত্রা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে। তার আগে দেখা যেত ইনফরমাল ফিড। তখন বেশির ভাগ খামারি নিজেরাই একটা ফিড মিক্স বানিয়ে গবাদিপশু ও মাছ-মুরগিকে খাওয়াতেন। এর পরই বাণিজ্যিক পর্যায়ে ফিড কার্যক্রম শুরু হয়। আলহামদুলিল্লাহ, বলতে পারি যে আমরাও এ শিল্পে অনেক বড় একটা অবদান রাখতে পেরেছি।
এ সেক্টরের মার্কেট সাইজ এবং আপনাদের মার্কেট শেয়ার সম্পর্কে যদি বলতেন।
বাংলাদেশে তো অনুমানের ভিত্তিতে কাজ করতে হয়। কারণ ওভাবে তথ্য ঠিকমতো পাওয়া যায় না। কিন্তু আমাদের আনুমানিক হিসাবে এটা ১৫-১৭ শতাংশ (বাজারে হিস্যা)।
যখন প্রোটিনের উৎস—মাছ, মুরগি বা ডিমের দাম ওঠানামা করে, তখন অনেক সময় কারণ হিসেবে মাছ-মুরগির খাদ্যের দামের কথা বলা হয়। এ মূল্যবৃদ্ধির দায় উৎপাদনকারী হিসেবে আপনারা এড়াতে পারেন কিনা? আর প্রোটিনের অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের মুনাফার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করেন?
এখানে ফার্ম ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দক্ষতার বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি একজন খামারির প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ ব্যয় হয় ফিডিংয়ে। তবে আপনি যদি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করেন, তাহলে দেখবেন ফিড কস্ট কিন্তু তুলনামূলকভাবে আমাদের এখানে কম। অনেকগুলো বিষয় এখানে জড়িত। একটি হলো খামার ব্যবস্থাপনা। দ্বিতীয় হলো খামারি থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর যে অবকাঠামো, সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল—এটাও ভূমিকা রাখে। এখানে অনেক সময় আমরা দেখি মধ্যস্থতাকারী। যদি কখনো মজুদ (হোল্ডিং) হয়, তখন সাপ্লাই ও দামের মধ্যে একটা ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। এটা মূলত ফিড ইন্ডাস্ট্রির কারণে নয়, বরং অনেক বেশি সরবরাহ শৃঙ্খলজনিত প্রেক্ষাপট।
অনেক খামারি ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন। খামারিরা না বাঁচলে তো এ ইন্ডাস্ট্রির অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এ বাস্তবতায় সাশ্রয়ী ফিড সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে আপনার অভিমত কী?
মাছ এখনো বাংলাদেশে প্রোটিনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস। সত্যিকার অর্থে আমাদের মৎস্য খামারি ভাইদের অনেক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা আমাদের হাতের বাইরে। এমন কিছু হলে আমরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবসময় চেষ্টা করি চাষীদের সহায়তা দিতে। কারণ খামারি ভাইয়েরা আমাদের পরিবারের সদস্য। তারা সফল হলে আমরা সফল হই। এখানে অন্যান্য অংশীজনেরও দায়িত্ব আছে, বিশেষ করে সরকার বা বীমাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খামারি ও কৃষক-চাষী ভাইদের সহায়তা করা প্রয়োজন।
ফিড খাতে দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার বাড়ানোর কোনো বাস্তবতা বাংলাদেশে আছে কি?
অবশ্যই আমরা স্বনির্ভরতা অর্জন করতে চাই। কিন্তু এ বাস্তবতা সত্যিকার অর্থে এখন পর্যন্ত নেই। কারণ আমরা এখনো পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। আমাদের ৭০-৮০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করা হয়। এমনকি যে ভুট্টা কৃষকদের থেকে কিনি, সেটার বীজও আমদানি করা হচ্ছে। অবশ্যই নতুন প্রজন্মের বিনিয়োগকারী হিসেবে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হওয়া উচিত কীভাবে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা যায়। এটা করার কিছু উপায় আছে। আমাদের গবেষণা প্রয়োজন এবং কৃষি শিল্পের ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা উচিত। কৃষি আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এটাকে আমরা পরিচর্যা করতে পারলে, উন্নয়ন ঘটাতে পারলে আমদানিনির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা সম্ভব।
বর্তমানে দেশে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। এ রূপান্তরের বড় লক্ষ্য ছিল বৈষম্য কমানো, যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র কৃষি খাত। এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন বাজেটে শুল্ক কাঠামোয় কোনো পরিবর্তনের প্রত্যাশা আছে কি? সামগ্রিকভাবে বাজেটে আপনাদের প্রত্যাশা কী?
এ শিল্পে উদ্যোক্তা হিসেবে অনেক প্রত্যাশা থাকতেই পারে। ব্যক্তিগতভাবে একজন নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা হওয়ায় আমাদেরও প্রত্যাশা আছে। ডিসক্রিমিনেশন বা ডিসপারিটি কিংবা বৈষম্য যেটাই বলি না কেন, জুলাই রেভল্যুশনের পরে নতুন সরকারের জন্য এবং আমাদের ব্যক্তিগত জীবনেও একটা লক্ষ্য পরিবর্তন আনা। প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি খাতে এবং কৃষি খাতের ইকোসিস্টেমে অনেক মানুষ জড়িত, বিশেষ করে এর মধ্যে নারীরাও রয়েছেন। এখানে পরিবর্তন আনতে চাইলে এ খাতকে প্রকৃত অর্থে সহায়তা করতে হবে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে।
২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের জনসংখ্যা ২৩-২৫ কোটির রেঞ্জের মধ্যে থাকবে। ওই সময়ের মধ্যে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের জটিলতাগুলো আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে আসবে। এগুলো ঠিকমতো মোকাবেলা করতে হলে সব অংশীজনের নীতিসহায়তা আমাদের প্রয়োজন। ডিউটি স্ট্রাকচার বলেন, করপোরেট ট্যাক্স বলেন, এআইটি বলেন—সব জায়গায় আমাদের সত্যিকার অর্থে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে ঘোষণা করা হলে তবেই আমরা পরিবর্তন আনতে পারব।
আরো বিস্তারিত বলতে গেলে আমাদের করপোরেট ট্যাক্স রেট যেটা এত বছর ১৫ শতাংশ ছিল, এটাকে যে সাড়ে ২৭ করা হচ্ছে, এটা মারাত্মকভাবে কৃষি খাতে বিনিয়োগ এবং এ খাতের শিল্পোন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। আমরা অবশ্যই চাইব না এটাকে বাধা দেয়া হোক। আমাদের সব মুনাফা এ খাতের ব্যবসায় পুনর্বিনিয়োগ করতে চাই, যাতে আমরা শিল্পের উন্নয়ন এবং কৃষকদের সহায়তা করতে পারি ও স্বনির্ভরতার দিকেও এগিয়ে যেতে পারি। এটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটা শিল্প এবং প্রজন্ম হিসেবে।
মাছ-মুরগির খাবার বা ফিডে অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করছে। এমন অভিযোগ ও ভীতি মানুষের মধ্যে আছে। ভোক্তাদের কি নিশ্চয়তা দিতে পারেন যে আপনারা নিরাপদ ফিড সরবরাহ করছেন?
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমি পুরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিশ্চয়তা দিতে পারি। কিন্তু এ শিল্পের সদস্য হিসেবে আমি পুরোপুরি হয়তো দিতে পারব না, এখানে অনেক জটিলতা আছে। অবশ্যই দিনের শেষে আমরা চেষ্টা করব ভালো মানের পণ্যই ভোগ করার। কারণ আমাদের খাদ্যই ভালো স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রা নিশ্চিত করে। একজন ভালো মানুষ হিসেবে কাজ করার ক্ষমতাও দেয়। অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব যেটা খাচ্ছি, ভালোটা খেতে।
এক্ষেত্রে সব পর্যায়ে সজাগ হওয়ার জন্য কী করার আছে?
সজাগ হওয়ার জন্য সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিধিবিধানের মর্যাদা রক্ষা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নজরদারি জরুরি। আমরা তো এখানে খেলার মাঠে খেলতে আসছি, খেলার মাঠের রুলস কিন্তু সেট করে দিতে হবে রেফারিকে। এখানে রেফারির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমি মনে করি এখানে সংশ্লিষ্ট সবার মোরাল ও এথিক্যাল রেসপনসিবিলিটিও আছে। কারণ নতুন প্রজন্মকে আপনি ঠকাতে পারবেন না, ফাঁকি দেয়া যাবে না। তারা সেটা গ্রহণ করবে না। যদি কেউ ভুল কিছু করতে থাকে, যদি পশুখাদ্যে কিছু মেশাতে থাকে যেটা পশুখাদ্যে থাকার কথা না, একপর্যায়ে সেটা অবশ্যই সমস্যার কারণ হবে ওদের জন্য। যে খাদ্যটা একটা প্রাণী খাচ্ছে, সেই প্রাণীটিকে একজন মানুষ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছে। এ পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা কোনো কন্টামিনেশন (দূষণ বা ভেজাল) চাই না।
কৃষির যে উপজাত বা বাইপ্রডাক্টস সেগুলোকে উচ্চমানের পুষ্টিতে রূপান্তর করার প্রযুক্তি নিয়ে কি আপনারা কাজ করছেন?
প্রযুক্তিতে ইনভেস্টমেন্ট তখনই হয় যখন উদ্যোক্তার হাতে বিনিয়োগ করার অর্থ থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত কোনো না কোনো কারণে অর্থ নিয়ে নেয়া হলে উদ্যোক্তা শিল্প গড়ে তুলতে পারেন না। এ কারণেই নীতির অসংগতিগুলো দূর করা প্রয়োজন, যাতে দিনের শেষে পুনর্বিনিয়োগের অর্থ হাতে থাকে। শিল্পটিকে আমরা যদি পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই তবে সবার সহায়তা লাগবে।
আপনি বলছেন পুনর্বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে প্রযুক্তিনির্ভর ইনভেস্টমেন্ট সম্ভব নয়। আপনাদের দাবি যে ব্যবসায় আপনাদের মার্জিনও খুব কম। এমন পরিস্থিতিতে পুনর্বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকে কিনা?
ফিড ইন্ডাস্ট্রি একটা ভলিউম বিজনেস। খুবই ভালো একটা বছরে যদি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা আয় হয়, তবে আপনি দেখতে পাবেন সর্বোচ্চ নিট মার্জিন আড়াই টাকা। এখন যদি সরকারের পক্ষ থেকে টার্নওভার ট্যাক্স—যেটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ, অযৌক্তিক এবং হিসাববিজ্ঞানের প্রচলিত সংজ্ঞার বাইরে এবং সব রীতিনীতি বা নিয়মবিরুদ্ধ—সেই টার্নওভার ট্যাক্স যদি ১ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ করা হয়, তবে আসে ২ টাকা।
আমার আড়াই টাকা মুনাফার মধ্যে যদি ২ টাকা নিয়ে নেয়া হয়, তাহলে পুনরায় বিনিয়োগের জন্য কী বাকি থাকল? কাজেই আমি করতে পারি না। এখানে সব অংশীজনের দায়িত্ব আছে শিল্পকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহ দেয়ার। এটা তখনই সম্ভব যখন আমরা নীতি সহায়তা পাব। আমরা যদি আড়াই টাকার পুরোটা বিনিয়োগ করতে পারি, তাহলেই আমরা শিল্পে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারব। সেটা প্রযুক্তি, খামার প্রক্রিয়াসহ নানা দিক থেকে হতে পারে।
আপনাদের প্রতিষ্ঠানের নাম কোয়ালিটি। আপনাদের পণ্যের মান ঠিক রাখতে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে আপনারা কী ধরনের ভূমিকা পালন করেন?
মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ব্যক্তিগত জীবনে আমরা সবাই চেষ্টা করি ভালো মানের খাবার খেতে। আমাদের প্রতিষ্ঠানও সবসময় চেষ্টা করে ভালো মানের ফিড খামারিদের কাছে পৌঁছে দিতে। এই একটি দিক প্রতিযোগীদের সঙ্গে আমাদের ভিন্নতা বা নিজস্বতা স্পষ্ট করে, যা কিনা আমাদের নামের মধ্যেই আছে—কোয়ালিটি। আমরা সব সময়ই চেষ্টা করব এ মান বজায় রাখার।
অনেক সময় পরিবেশদূষণের অভিযোগ ওঠে ফিড ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে। টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবসার যে বৈশ্বিক মানদণ্ড, সেই বিচারে আমাদের শিল্প এবং আপনাদের কোম্পানির অবস্থান কী?
আমরা চেষ্টা করছি টেকসই একটা পথে নিজেদের অপারেশন এগিয়ে নিতে। কারণ ফিড শিল্প কৃষি খাতের ইকোসিস্টেমকে সহায়তা করছে। টেকসই ব্যবস্থার মাধ্যমেই কৃষি ইকোসিস্টেম বা কৃষি পরিবেশ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ হয়। বড় ফিড প্রতিষ্ঠান যারা আছে, তারা নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করার যথেষ্ট চেষ্টা করছে। আমাদের বেশির ভাগ কারখানা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সৌর ব্যবস্থা থেকে। নীতিসহায়তা থাকলেই টেকসই হওয়ার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
সরকার সম্প্রতি কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছে। এ উদ্যোগকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
এটাকে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাই। নতুন সরকারের এটা খুব ভালো একটি উদ্যোগ। আমরা যদি কৃষি খাতের দিকে গভীর দৃষ্টি দিই, দেখা যাবে ২০০১-০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো কৃষি খাতকে কর থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এতে ওই সময় বিএনপি সরকার কৃষি ও খামারিবান্ধব হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এটা দেখে ভালো লাগছে যে নতুন যে বিএনপি সরকার এল, তারা এ ঐতিহ্য বা ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি। আমরা অবশ্যই প্রত্যাশা করব, তারা আমাদের কৃষক ও খামারি ভাইদের পাশে দাঁড়াবেন। কারণ আমাদের কৃষক ও খামারি ভাইরা যদি সফল হন, তবে দেশ হিসেবে আমাদের সবারই জয় হবে। সূত্র: বণিক বার্তা
সিভি/এম

