আগামী জাতীয় বাজেটে জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ির আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।
সংগঠনটির দাবি, বর্তমান উচ্চ শুল্ক ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানিকৃত গাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বিক্রি কমে গেছে এবং সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে গাড়ি।
আজ শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক। তিনি বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমানো এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে জাপান থেকে আমদানি করা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ির কর হারও কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, গণপরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি পিকআপ ভ্যানের শুল্ক কমানো, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করা এবং আমদানিযোগ্য গাড়ির বয়সসীমা বর্তমান ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বারভিডার তথ্য অনুযায়ী, দেশে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানি ও বিপণন খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাত থেকে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসে। এছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, আয়কর ও রোড ট্যাক্স পরিশোধের মাধ্যমে এ খাত দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি ও বীমা খাতের কার্যক্রমও এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সম্প্রসারিত হয়েছে।
বারভিডার ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কিছুটা কমলেও শুল্ক ও কর হার অপরিবর্তিত রয়েছে। এর সঙ্গে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় আমদানিকৃত গাড়ির দাম আরও বেড়েছে। ফলে বাজারে ক্রেতা কমে গেছে এবং বিক্রিতেও বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে জাপান থেকে বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংগঠনটির দাবি, এ সময়ে কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা ও তানজানিয়ার তুলনায়ও বাংলাদেশে কম গাড়ি আমদানি হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য তুলে ধরে বারভিডা জানায়, ২০১৫ সালে দেশে ২১ হাজার ৯৫২টি গাড়ি নিবন্ধন হয়েছিল। ২০১৬ সালে নিবন্ধন হয় ২১ হাজার ২৯টি এবং ২০১৭ সালে ২০ হাজার ২৬৮টি। তবে পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
২০২৩ সালে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা নেমে আসে ১০ হাজার ৭৮৪টিতে। ২০২৪ সালে তা হয় ১০ হাজার ৪৯৯টি এবং ২০২৫ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৮৭টিতে।

