স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় সময় বাড়ানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। বিজিএমইএ মনে করছে, এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়া গেলে শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি-এর সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই মতামত তুলে ধরা হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, যদি জাতিসংঘ বাংলাদেশের আবেদন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে, তাহলে এই অতিরিক্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ তৈরি করা সম্ভব হবে। সেই রোডম্যাপ অনুসরণ করে সরকার ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে পারবে, যা শিল্পখাতকে দীর্ঘমেয়াদে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিনিয়োগ পরিবেশের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় সরকার এই সময়সীমা ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে। এটি ‘সংকটকালীন বিশেষ বিধান’-এর আওতায় করা হয়েছে।
বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বল্প সময়ের মধ্যে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
পোশাক খাতের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিজিএমইএ সভাপতি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে গেলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে সেফগার্ড থ্রেশোল্ড অতিক্রম করলে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পর্যাপ্ত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি না থাকাও একটি বড় দুর্বলতা।
এছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘রুলস অব অরিজিন’-এর কঠোর শর্ত পূরণে সক্ষমতার ঘাটতিও রয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। তাই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য ব্যবসার খরচ কমানো, নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, এলডিসি থেকে উত্তরণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদা পরিবর্তন নয়—এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় রূপান্তরের ধাপ। সেই রূপান্তর যেন টেকসই ও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়, সেজন্যই বাড়তি সময়ের দাবি তুলছে শিল্পখাত। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই আবেদন কতটা ইতিবাচক সাড়া পায়।

