দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সরকারি কলকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন তিনি।
গতকাল সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কলকারখানার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানায়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমিয়ে আনতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এবং একাধিক দপ্তরের অনুমতির বাধ্যবাধকতা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব কারণে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যেসব মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের অনুমোদন অপরিহার্য নয়, সেগুলো প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিতে হবে।
এছাড়া বন্ধ সরকারি কলকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ পরিশ্রমী মানুষ ভালো থাকলেই দেশ ভালো থাকবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় দেশের শিল্পকারখানা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং অর্থনীতিকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করলেই সব বেকারের কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। দেশে ও বিদেশে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে আর কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন।
সরকারি পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীনে থাকা ১৫টি চিনিকলের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ৬টি চিনিকল বন্ধ রয়েছে। এগুলো হলো—কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড়, শ্যামপুর, রংপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে লোকসানের কারণ দেখিয়ে এসব মিল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকলও একই সময়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বর্তমানে কিছু পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় (লিজ) চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে লিজ দেওয়া হয়েছে, এবং আরও কারখানা পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে চালুর উদ্যোগ চলছে।

