বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সক্ষম হয়েছে। তবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন এই খাতের সুফল থেকে বঞ্চিত ছিল।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন সৌরবিদ্যুৎ খাতে অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নীতিগত সহায়তার ঘাটতি। এই খাতকে গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে বৈঠক করেছে এবং নীতিমালার ভিত্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, যথাযথ নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
নিজ বক্তব্যে তিনি তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আশির দশকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যবস্থাই গার্মেন্টস খাতের অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। একইভাবে সৌরবিদ্যুৎ খাতেও সহায়ক নীতি প্রণয়ন করা গেলে দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ইনভার্টার, ফ্রেম ও ফটোভোল্টাইক প্যানেলের মতো যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য সহজ ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা সহজে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবেন। তিনি ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান। তার মতে, শুধু দিনের আলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট নয়, বরং সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদা পূরণে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য করের চাপ কমিয়ে সাশ্রয়ীভাবে সৌর প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। জুনে এটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি আদেশ হিসেবে জারি হতে পারে। তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তারা ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে ভবন মালিকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন। নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করা হবে এবং ভবন মালিকরাও এর একটি অংশ পাবেন। এতে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে এবং শহরের বিদ্যুৎ চাপও কমবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ।
আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এই এক্সপো শনিবার পর্যন্ত চলবে। এতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতের নানা প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শিত হচ্ছে। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি)।

