উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছিল। অবশেষে সেই প্রত্যাশার দিকেই এগোচ্ছে সরকার। নবম পে-স্কেলের প্রাথমিক সুপারিশে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভাতা ও পেনশন কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে কয়েকটি বিশেষ ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও পেনশন ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা যোগ করার চিন্তা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বৈশাখী ভাতা। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এই ভাতা পেয়ে থাকেন। নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, এটি বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন হলে উৎসবকেন্দ্রিক ব্যয় সামাল দিতে চাকরিজীবীরা বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া টিফিন ভাতাতেও বড় পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে। বর্তমানে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা পান। নতুন প্রস্তাবে এই ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ভাতা বাস্তবতার তুলনায় অনেক কম ছিল বলে কর্মচারীদের অভিযোগ ছিল।
শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও বাড়তি সুবিধার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে সন্তানদের জন্য মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতা দেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন অনেকেই।
পেনশনভোগীদের জন্যও নতুন কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রাথমিক সুপারিশে তিন ধাপে পেনশন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় পুরো পে-স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাই এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার চিন্তা করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার খসড়া বরাদ্দ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রয়ক্ষমতাও বাড়বে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে শুধু বেতন ও ভাতা বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও দিতে পারে।
তারপরও দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নতুন পে-স্কেলের এই উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন চূড়ান্ত সুপারিশ ও সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লাখো মানুষ।

