চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও গতি ফিরেছে। সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে। এর আগের মাস মার্চে এই মান ছিল ৫৩ দশমিক ৫ পয়েন্ট।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত সর্বশেষ পিএমআই প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তা এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের কারিগরি সহযোগিতায় প্রতিবেদনটি ৭ মে প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষি ও উৎপাদন খাতে কার্যক্রম বাড়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন খাত মার্চে কিছুটা সংকুচিত থাকলেও এপ্রিল মাসে তা আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসে। কৃষি খাতও টানা অষ্টম মাসের মতো প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এই খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম, উপকরণ খরচ এবং কাজের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত অগ্রগতি দেখা গেছে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে।
উৎপাদন খাতে নতুন করে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও এর পেছনে ছিল কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি, উপকরণের ক্রয় বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের চাপ। পাশাপাশি নতুন ক্রয়াদেশ, রফতানি আদেশ ও কর্মসংস্থানও ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে। তবে কিছু সূচকে দুর্বলতা রয়ে গেছে। উৎপাদিত পণ্যের মজুদ এবং আমদানি কার্যক্রমে সংকোচন অব্যাহত থাকলেও তা আগের তুলনায় কমে এসেছে।
অন্যদিকে সেবা খাত টানা ১৯ মাস ধরে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিই এ খাতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তবে নতুন ব্যবসা এবং অনিষ্পন্ন ক্রয়াদেশ কিছুটা কমেছে। নির্মাণ খাতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল। টানা তৃতীয় মাসের মতো এ খাতে সংকোচন দেখা গেছে এবং এপ্রিল মাসে সেই চাপ আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—সব খাতের ব্যবসায়ীরাই ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে বলে তাদের আস্থা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।
তবে প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যেও ব্যবসায়িক আস্থার ধারাবাহিকতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

