মেগা প্রকল্পের নামে বিপুল অর্থ লুটপাট ও পাচারের অভিযোগ তুলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি দাবি করেছেন, এসব প্রকল্প ঘিরে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে এবং ২০ লাখ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক ঋণের দায় এখন রাষ্ট্রকে বহন করতে হচ্ছে।
সোমবার শরীয়তপুরে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পদ্মা সেতু জাদুঘরের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, অতীতে যেসব বড় অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, তার একটি বড় অংশে অনিয়ম হয়েছে। তাঁর ভাষায়, অনেক প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হলেও কাজ শেষ হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে, ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৬টি বড় প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এ কারণে বর্তমান সরকারকে অতীতের অনিয়মের আর্থিক চাপ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সেতুমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর আস্থা কমে গেছে। ফলে বড় প্রকল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহও হ্রাস পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পদ্মা সেতু এলাকায় নতুন উদ্যোগ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন। তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ তিনি মেগা প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অতীত সরকারের কার্যক্রম নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন।

