দেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতকে টিকিয়ে রাখতে ব্যাংক ঋণের শর্ত শিথিল এবং সুদের হার কমানোর দাবি তুলেছেন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।
তাদের মতে, বর্তমান উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে উৎপাদনমুখী শিল্পগুলো টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই ঋণ খেলাপি ঘোষণার সময়সীমা তিন মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার পাশাপাশি ঋণের সুদ ১১ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা জরুরি।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের একটি প্রতিনিধি দল। ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী।
বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে ঋণনির্ভর ব্যবসা পরিচালনা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উৎপাদন খাতে এ চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, সুদের হার কমানো না গেলে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
তারা আরও বলেন, গ্যাস সংকট, ডলারের দামের চাপ, টাকার অবমূল্যায়ন, মূল্যস্ফীতি এবং বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশের শিল্প খাত বহুমুখী সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে অনেক কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পে নতুন করে অর্থায়নের পরিবর্তে এখনো চালু থাকা দুর্বল শিল্পকারখানাগুলোকে সহায়তা দিলে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী। তিনি জানান, শিল্প খাত সচল রাখতে কার্যকর মূলধন সহায়তা বাড়ানো, ঋণের সুদ কমানো, জরিমানামূলক সুদ হ্রাস এবং বিদেশি পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা মহামারির পর থেকেই শিল্প খাতে কার্যকর মূলধনের সংকট তৈরি হয়। পরে গ্যাস সরবরাহে চাপ, ঋণের সুদ বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে উৎপাদনমুখী শিল্প বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।
তার ভাষায়, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শিল্প খাতকে সচল রাখা জরুরি বলেই সরকারও মনে করছে। সে কারণেই বিদ্যমান শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এবং আরও সক্ষম করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসাইন ও জসীম উদ্দীন, বিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান, বিসিএমইএর চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএমএএমএর সভাপতি মতিউর রহমান, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ শাহরিয়ার এবং বিসিআইয়ের সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তীসহ অন্যরা।

