Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, মে 14, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » আবাসিকে গ্যাস সংকটের ভয়াবহ চিত্র
    অর্থনীতি

    আবাসিকে গ্যাস সংকটের ভয়াবহ চিত্র

    নিউজ ডেস্কমে 14, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সেলিনা হোসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সারাদিন অফিসের কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে তিনি বাসায় ফেরেন কিন্তু বিশ্রামের সুযোগ মিলছে না। কারণ রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস চুলায় ঠিকমতো আসছে না। কখনো একেবারেই নেই, আবার কখনো খুবই কম চাপ থাকে। ফলে রাত গভীর না হওয়া পর্যন্ত রান্না শুরু করা সম্ভব হয় না।

    এই পরিস্থিতি এখন শুধু সেলিনা হোসেনের একার নয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। অনেক সময় গভীর রাতেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হয়। এতে বিপাকে পড়ছেন কর্মজীবী ও গৃহিণীরা।

    সেলিনা হোসেন বলেন, সকাল ও দুপুরে বাইরে খেতে হয়। সারাদিন কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরে দ্রুত রান্না শেষ করে বিশ্রাম নিতে চান তিনি। কিন্তু গ্যাস না থাকায় অপেক্ষা করতে হয় গভীর রাত পর্যন্ত। তার ভাষায়, অনেক দিন এমনও গেছে দুপুরে ছুটির দিনেও রান্না করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। বুধবার দেশের ২২টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে মোট গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট। গত বছর একই দিনে উৎপাদন ছিল ১১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ১৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

    গ্যাস সংকটের কারণে ভোগান্তির কথা জানান মিরপুরের বাসিন্দা গৃহিণী হোসনে আরা। তিনি বলেন, সকাল থেকে চুলায় গ্যাস থাকে না, থাকলেও খুবই কম জ্বলে। রান্না করা যায় না। রাত ১২টা থেকে ১টার দিকে চাপ কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এ সমস্যা কবে শেষ হবে তা তিনি জানেন না।

    রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুর ছাড়াও বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের বেলা রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাড্ডার বাসিন্দা মো. ফাহাদ বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকে না। সন্ধ্যাতেও পাওয়া যায় না। শুধু গভীর রাতে গ্যাস আসে। এতে তাদের দৈনন্দিন রান্নাবান্না ও খাবারের সময়সূচি পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে।

    সরকারি পাইপলাইনের দুই চুলার গ্যাসের বিল বর্তমানে ১০৮০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে নিয়মিত রান্না করা সম্ভব না হওয়ায় এই বিল এখন অনেক গ্রাহকের কাছে বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাত গভীর না হওয়া পর্যন্ত চুলায় গ্যাস না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে এলপি গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে মাস শেষে খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

    সরবরাহ পরিস্থিতির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যেখানে চাহিদা প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। একইভাবে সার উৎপাদন খাতে চাহিদা ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ মিলছে ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। গুরুত্বপূর্ণ এসব খাতে ঘাটতির কারণে চাপ বাড়ছে মূলত আবাসিক খাতে, ফলে ভোগান্তি আরও তীব্র হচ্ছে।

    অন্যদিকে এলপি গ্যাসের দাম সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য ১ হাজার ৯৪০ টাকা। তবে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার অসামঞ্জস্যের কারণে তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। ফলে মাসিক খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকার কাছাকাছি। মিরপুরের বাসিন্দা জসীম উদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে নিয়মিত বিল দিতে হয়। কিন্তু গ্যাস পাওয়া যায় গভীর রাতে। তখন রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তার প্রশ্ন, “এই সময়ে গ্যাস দিয়ে আসলে কী করব?”

    গ্যাস সংকটের মূল কারণ কী:

    রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান গ্যাস সংকটের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে সরবরাহ কমে যাওয়াকেই উল্লেখ করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে ২৭২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। এই সরবরাহের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে এসেছে ১৬৭৩ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে এসেছে ১০৫১ মিলিয়ন ঘনফুট।

    পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। দেশের ২২টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে বুধবার উৎপাদন হয়েছে ৯৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে গত বছর একই দিনে উৎপাদন ছিল ১১২৩ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ এক বছরে উৎপাদন কমেছে ১৫৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

    সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছর ১৩ মে যেখানে উৎপাদন ছিল ৯৩৩ মিলিয়ন ঘনফুট, এবার তা নেমে এসেছে ৭৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে। পেট্রোবাংলার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৯ সালের শুরুতে এই ক্ষেত্রের উৎপাদন আরও কমে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে।

    গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড–এর একজন কর্মকর্তা জানান, অবৈধ সংযোগও সংকটকে আরও প্রকট করছে। তার মতে, নিয়মিত অভিযান চললেও এসব সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে বৈধ গ্রাহকরা পর্যাপ্ত চাপ পাচ্ছেন না।

    একই সময়ে গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে ২০১৮ সাল থেকে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি শুরু হয়। শুরুতে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক সরবরাহ ছিল প্রায় ২৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তখন একটি টার্মিনালের মাধ্যমে ৩০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতো।

    পরবর্তীতে আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল যুক্ত করা হলেও মোট অবকাঠামো দিয়ে সর্বোচ্চ ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ সম্ভব। তবে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় আমদানি বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। নতুন টার্মিনাল হলেও তা ২০২৮ সালের আগে উৎপাদনে আসার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকরা সরবরাহ তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরকারের নীতিতে বিদ্যুৎ, সার এবং শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

    একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে আবাসিকে পূর্ণ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। তার মতে, বিদ্যুৎ ও সার খাতে চাহিদা মেটাতে গিয়ে আবাসিক খাত সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ছে। তিনি মনে করেন, আবাসিক সংযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ করে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহারে জোর দেওয়া যেতে পারে।

    বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট, চাহিদা প্রায় ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সার খাতে চাহিদা ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ ১৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এসব খাতে ঘাটতি থাকায় চাপ সরাসরি পড়ছে আবাসিক ব্যবহারকারীদের ওপর।

    অন্যদিকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে পাইপলাইন গ্যাসের গ্রাহক প্রায় ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় রয়েছেন। আরও ১৭ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও সেটি এখনো অনুমোদন পায়নি।

    দেশের চলমান গ্যাস সংকট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ ও সমাধানের কথা বলছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড–এর মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, অবৈধ সংযোগ গ্যাস সংকটকে আরও তীব্র করছে। নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও এসব সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে বৈধ গ্রাহকরা পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ পাচ্ছেন না।

    তিনি আরও বলেন, সামগ্রিক গ্যাস উৎপাদন না বাড়ালে সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা কম। বিদ্যুৎ ও সার খাতকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে আবাসিক খাতে সরবরাহ কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানি তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ানোও সহজ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেন মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবাসিক খাতে পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, বিদ্যুৎ ও সার খাতে চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে আবাসিক খাত সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, আবাসিক সংযোগ ধীরে ধীরে বন্ধ করে বিকল্প হিসেবে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো উচিত। তবে এই পরিবর্তন কার্যকর করতে হলে সরকারকে অবশ্যই এলপিজিতে ভর্তুকি দিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জীবনমান উন্নয়নে অগ্রাধিকার

    মে 14, 2026
    অর্থনীতি

    বিশ্বের শীর্ষ ১০ সমুদ্রবন্দর ও তাদের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতা

    মে 14, 2026
    অর্থনীতি

    সামাজিক খাতে রেকর্ড বরাদ্দ পরিকল্পনা

    মে 14, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.